বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন

সকলের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রতিবেদকের নাম

সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সকালে বঙ্গভবনে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের সমান নাগরিক। সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের বিপরীতে বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। এটিকে দেশের অন্যতম বড় অর্জন আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের প্রধান শক্তি ও অস্তিত্বের ভিত্তি, যা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।

গুজব, অপপ্রচার এবং ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নেওয়ার তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান। কোনো অপশক্তি যেন জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতিতে ফাটল ধরাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, হাজার বছর ধরে এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রেখে বসবাস করে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়ই এই উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী। ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যাতে বৈষম্য কিংবা নিপীড়নের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সব মানুষ যেন নিরাপদ পরিবেশে উৎসব পালন করতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ