দক্ষিণি সিনেমা ‘পেড্ডি’তে নিজের অভিনীত চরিত্র নিয়ে ওঠা বিতর্কের দায় স্বীকার করেছেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সিনেমাটিতে তাঁর অভিনীত অচিয়াম্মা চরিত্রটিকে যেভাবে যৌন আবেদননির্ভরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং নারীর অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। জাহ্নবীর মতে, শুটিংয়ের সময় বিষয়টি নিয়ে আরও জোরালো প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল তাঁর। এ ছাড়া চিত্রনাট্যে সব সময় দৃশ্যের পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপন বোঝা যায় না বলেও জানান তিনি। অশালীন উপস্থাপনা থেকে বেফাঁস মন্তব্য, বারবার বিতর্কে জাহ্নবী।
করণ জোহরের সঞ্চালনায় ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানের নবম আসরে অভিনেতা বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। করণ যখন জানতে চান কেন তিনি বিতর্কিত দৃশ্যগুলো ঠেকানোর চেষ্টা করেননি, তখন জাহ্নবী জানান যে সিনেমাটির পেছনে অসংখ্য মানুষের পরিশ্রম জড়িত থাকায় তিনি শুরুতে দ্বিধায় ছিলেন। তবে চরিত্রটির এমন উপস্থাপন সমাজে নারীদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে, সেই বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে পীড়া দিচ্ছে।
অভিনেত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই ঘটনার দায় স্বীকার করা আমার জন্য জরুরি। সমাজে এবং আমার লিঙ্গের মানুষের ওপর এমন উপস্থাপনার নেতিবাচক প্রভাব আমাকে লজ্জা দিচ্ছে, যা আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে। আমি কি আরও সচেতন হতে পারতাম বা কঠোর প্রতিবাদ করতে পারতাম? অবশ্যই পারতাম, শতভাগ। আমার সুবিধাজনক পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থানের কারণেই অন্য অনেকের তুলনায় আমার প্রতিবাদ করার সুযোগ বেশি ছিল, যা আমার যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিত ছিল।’ কারণ, সুবিধাজনক হওয়ার জন্য এমনিতেই আমাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।
জাহ্নবী ব্যাখ্যা করেন, শুটিংয়ের সময় একজন অভিনেতা অনেক ক্ষেত্রে পরিচালকের নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য থাকেন। পেশাদারিত্বের খাতিরে পরিচালকের কথা শুনতে হয়, যদিও তিনি নিজের দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাচ্ছেন না। এছাড়া চিত্রনাট্য পড়ার সময় ক্যামেরার কোণ বা চূড়ান্ত সম্পাদনার পর দৃশ্যটি পর্দায় কেমন দেখাবে, তা সব সময় বোঝা সম্ভব হয় না। তবে যতটা সম্ভব পরিস্থিতি বুঝে তিনি দৃশ্যগুলোকে কম সমস্যাজনক করার চেষ্টা করেছিলেন। পরিচালকের নির্দেশ মেনে চলাকে পেশাদারত্বের অংশ হিসেবে দেখার চাপ থাকে বলে জানান তিনি।
পরিচালক বুচি বাবু সানার ‘পেড্ডি’ সিনেমায় রাম চরণের বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাহ্নবী। সিনেমাটির কিছু দৃশ্যে যৌন সহিংসতাকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য করে তোলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা তিনি অস্বীকার করেননি। তাঁর ভাষায়, ‘হ্যাঁ, এটি সমস্যাজনক ছিল এবং নারী চরম অবমাননার শিকার হয়েছে।’ ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেদিকেই তাঁর এখন প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি জানিয়েছেন। এমনকি গল্পের মধ্য দিয়ে যৌন সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের পর পরিচালক বুচি বাবু সানা প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং তিনি দাবি করেছেন যে নারীকে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। বিতর্কের মুখে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত সংস্করণ থেকে বিতর্কিত দৃশ্যগুলো হয় বাদ দেওয়া হয়েছে, নয়তো সম্পাদনার মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হয়েছে। জাহ্নবী এখন এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে কাজের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেছেন।