ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে ঘিরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের টানাহেঁচড়া ও বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে তিনি আদালত চত্বরে উষ্মা প্রকাশ করেন।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাদা গাড়িতে চড়ে আদালতে পৌঁছান পরীমনি। তার সঙ্গে কালো পোশাকধারী অন্তত ১০ জন দেহরক্ষী ছিলেন। আদালতের কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত তিনি গাড়িতেই অপেক্ষা করেন। পরবর্তীতে আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় উৎসুক জনতা ও সংবাদকর্মীদের ভিড়ে তিনি অস্বস্তিতে পড়েন। ভিড় সামলানোর সময় পরীমনির দেহরক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এসময় বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী ও বিচারপ্রার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে তিনি আদালতের পাশের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছারসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আশিকুজ্জামানের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া সমকালের প্রতিবেদক রবিউল হোসেন ও আগামীর সময়-এর প্রতিবেদক সিয়াম হোসেনের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জামিন পাওয়ার পর এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে পরীমনি তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং বলেন, ‘সাংবাদিকরাও মেয়েদের গায়ে হাত দেয়, কত বড় সাহস।’ আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাত লাগে।
এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় একজন বিচারপ্রার্থীকেও দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করেছেন। জামিনপ্রাপ্তির পর পরীমনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।