বেতন বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালিত হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেন। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে সারা দেশে ৪৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত ৫৩ জন সদস্য আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে ৮৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই ধরপাকড় চালানো হয়। যদিও অধিকাংশ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু প্যারিস, লিওঁ, রেন ও তুলুজে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এদিনের বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অংশ নেন, যার মধ্যে শুধু প্যারিসেই ছিলেন ৬৫ হাজার জন। তবে সিজিটি ইউনিয়নের দাবি অনুযায়ী, সারা দেশে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ এবং প্যারিসে এই সংখ্যা ছিল সাড়ে ৩ লাখ। তবে বেশির ভাগ এলাকায় অনুমোদিত মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিজিটি ইউনিয়নের মহাসচিব সোফি বেনে ধর্মঘটকে অত্যন্ত সফল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সব কর্মীর বেতন বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি ১০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, আগামী ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সামাজিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষাঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলনের প্রভাব।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৮৪টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টিতে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষক ইউনিয়ন স্নেস-এফএসইউ দাবি করেছে, দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ৫২ শতাংশ শিক্ষাকর্মী ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন।
প্যারিস ও বোর্দোসহ বেশ কিছু শহরে শিক্ষার্থীদের অবরোধ সরাতে পুলিশি অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শিক্ষার পরিবেশ, অর্থায়ন ও শিক্ষক-কর্মচারীর সংকট নিয়ে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়।
গত সেপ্টেম্বর থেকে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন বর্তমানে বেতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে।