কর্মজীবন শেষ হলেও একজন পেশাজীবীর দীর্ঘ কয়েক দশকের অর্জিত দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্ব কম নয়। সেই অভিজ্ঞতাকে ব্যবসা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও নতুন প্রজন্মের পেশাজীবীদের কাজে লাগানোর লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ‘রিটায়ারএক্সপার্ট’ নামক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ফিফোটেক প্রফেশনাল সার্ভিসেস ইনকরপোরেটেডের এই বিশেষ উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে যাত্রা শুরু করলেও অচিরেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে তাদের কার্যক্রম বিস্তারের পরিকল্পনা করছে।
প্ল্যাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের চারপাশে এমন বহু মানুষ রয়েছেন যারা দীর্ঘ ৩০ থেকে ৪০ বছর একটি নির্দিষ্ট খাতে কাজ করেছেন। অবসরের পর তাদের বিশাল অভিজ্ঞতার একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। অথচ একই সময়ে তরুণ উদ্যোক্তা বা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এমন অনেক জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয়, যার সমাধান অভিজ্ঞদের কাছে থাকা সম্ভব। রিটায়ারএক্সপার্টের মূল লক্ষ্য হলো এই দুই পক্ষকে একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করা, যাতে অবসরপ্রাপ্তদের জ্ঞান নতুন প্রজন্মের কাজে লাগে। তিনি বলেন, ‘রিটায়ারএক্সপার্টের মাধ্যমে আমরা এই দুই পক্ষকে এক জায়গায় আনতে চাই। প্ল্যাটফর্মটির দর্শনকে সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে-‘অভিজ্ঞতার কখনো অবসর হয় না।’।
রিটায়ারএক্সপার্টের দর্শন হলো ‘চাকরি থেকে অবসর হয়, অভিজ্ঞতা থেকে নয়’। এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে অবসরকে পেশাজীবীর দক্ষতা ও অবদানের শেষ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। বরং দীর্ঘ কর্মজীবনের জ্ঞান ব্যবহার করে নতুন ব্যবসা গঠন, প্রতিষ্ঠানের সংকট নিরসন, তরুণদের মেন্টরশিপ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা হবে। প্রতিষ্ঠাতা তৌহিদ হোসেন মনে করেন, একজন অভিজ্ঞ মানুষের সময়োপযোগী পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের বড় ভুল এড়াতে বা একজন উদ্যোক্তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবসায়িক কৌশল, ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, অর্থ ও হিসাবরক্ষণ, মানবসম্পদ এবং বিপণনসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হচ্ছে। সেবা নিতে আগ্রহী ব্যক্তি, উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট থেকে ‘সার্চ এক্সপার্টস’ অপশনে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ খুঁজে নিতে পারবেন। একইভাবে, অবসরপ্রাপ্ত পেশাজীবীরা ‘জয়েন অ্যাজ এক্সপার্ট’ অপশনে গিয়ে নিজেদের তথ্য দিয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন।
রিটায়ারএক্সপার্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যেখানে বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রবীণ পেশাজীবীরা ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার সমাধানে নিরন্তর অবদান রেখে যাবেন। এর ফলে একদিকে অভিজ্ঞরা নতুন করে কর্মক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্ম ও উদ্যোক্তারা বাস্তবমুখী পরামর্শের মাধ্যমে তাদের চলার পথ সহজ করতে পারবেন।