শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ায় কর অঞ্চলের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি: ৪ জন আটক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ঃ

কুষ্টিয়া কর অঞ্চল কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে চার ভুয়া প্রার্থীকে (প্রক্সি) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে অফিস সহায়ক পদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) চলাকালীন তাদের আটক করা হয়। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রকৃত চাকরিপ্রার্থীদের পরিবর্তে তারা এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ বুধবার (২৪ জুন) কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের নিয়োগ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি জালিয়াতির মামলা দায়ের করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে অফিস সহায়ক পদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সময় ওই চারজনের গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হয় নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন কর্তৃপক্ষ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের কাগজপত্র ও প্রবেশপত্র যাচাই করা হলে দেখা যায়, মূল ছবির জায়গায় জালিয়াতি করে অন্য ছবি বসানো হয়েছে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্তরা স্বীকার করেন যে, তারা প্রকৃত প্রার্থীর পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে প্রক্সি দিতে এসেছেন।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, জালিয়াতির ঘটনাটি ধরা পড়ার পর রাত দেড়টা পর্যন্ত ওই চারজনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে জোর তদবির শুরু হয়। তবে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত রাতেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে মধ্যরাতে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

এর বাইরে, কর অঞ্চল কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষার একটি লিখিত উত্তরপত্র (খাতা) পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাইরে প্রশ্নোত্তরের এই খাতা কীভাবে এলো, সে বিষয়ে কর কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের কর কমিশনার মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর মধ্যরাতে ওই চারজনকে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে কার্যালয়ের বাইরে লিখিত খাতা পাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি স্পষ্ট জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আজ বুধবার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই জালিয়াতির পেছনে একটি বড় চক্র কাজ করছে বলে আমাদের ধারণা। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তিতে চাকরিপ্রার্থীদের পরিবর্তন করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই ঘটনার পর সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ