সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাজেকে দুই সংগঠনের গোলাগুলি, টানা দ্বিতীয় দিনে আতঙ্কে স্থানীয়রা ১০ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের তফসিল পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভের উত্তাপ নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অক্টোবরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৮৭ কোটি ডলার সাবেক বিমান কর্মকর্তা সাউরি মৃত্যুতে দিশার চার দিনের রিমান্ড দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৮, নতুন রোগী ১৯২৯ আমেরিকার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব ট্রাম্পের সামরিক হুমকির পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মোজতবা খামেনি পুলিশ: মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী চক্র যুক্ত হতে পারে শিক্ষামন্ত্রী: শিগগিরই পে-স্কেলের আওতায় আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

চুয়েটে উপাচার্য ভবনে তালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রতিবেদকের নাম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। সোমবার নিয়োগের ২১ দিন পর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ভবনের ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমানের কাছে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পরপরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই শিক্ষার্থীরা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বেরিয়ে না আসায় দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।

বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা ‘প্রত্যাখ্যান, নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিরা তাজরীন জানান, তালা ভেঙে প্রবেশ করায় তারা উপাচার্যকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা না মানায় বাধ্য হয়েই পুনরায় তালা দেওয়া হয়েছে। এদিকে ভবনের ভেতরে উপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। উপাচার্য প্রবেশের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল ও খাবার দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, তিনি সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা যায়। সকাল থেকে তিনি কোনো দাপ্তরিক কাজ শুরু করেননি। অন্যদিকে, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত দাবি করেন যে, তারা নিয়ম মেনেই উপাচার্যের সঙ্গে প্রবেশ করেছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন মনে করেন, সরকারের নিয়োগকৃত উপাচার্যকে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী জানিয়েছেন, তাদের এই আন্দোলন চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এর প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করায় নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিকাল তিনটায় অডিটোরিয়ামে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ