আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনগুলোর বিষয়ে খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বার কাউন্সিল। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে মতামত চাওয়া হয়েছে। বার কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যেকোনো দেশীয় আদালত কিংবা ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে অংশ নিতে হলে বিদেশি আইনজীবীদের জন্য বার কাউন্সিলের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। বর্তমানে বিচারাধীন মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলোতে ইতিবাচক সাড়া মিলবে। এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের বক্তব্য হলো, বার কাউন্সিলের যথাযথ অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশি আইনজীবীদের মামলা পরিচালনায় আইনি কোনো বাধা থাকবে না।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান তাদের নিজ নিজ মামলার শুনানির জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেছিলেন। এই ধারায় সর্বশেষ একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপার পক্ষে যুক্তরাজ্যের দুজন আইনজীবী—লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারসের জোনাথন প্রাইস ও নিকিলা কৌশিক ই-মেইলের মাধ্যমে বার কাউন্সিলে আবেদন জমা দিয়েছেন।
ফারজানা রুপার আইনজীবী মাহবুব শফিক গত বুধবার ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জরুরি অনুমতি চেয়ে বার কাউন্সিলে একটি আবেদন দাখিল করেন। উল্লেখ্য, আগামী ১লা নভেম্বর ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানির আগে আইনি প্রক্রিয়ার এই আপডেটটি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।