মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভার্চুয়াল নারীর প্রেমে সম্পত্তি বেচে ব্রাজিলে প্রতারিত রাজমিস্ত্রি প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন ইশরাক হোসেন এ মাসেই বাড়তি বেতন পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৫১ ভর্তি দুটি ফ্যান ও বাতির বিল লাখ টাকা মাদক নির্মূলে অভিযানে গিয়েছিলাম, চাঁদাবাজি নয়: ইশরাক শিক্ষামন্ত্রী: প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম হুমায়ুন কবির -: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় প্রবাসীর বাড়ির পথ আটকে বেড়া, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে পাঁচ প্রকৌশলীর বদলি: দুর্নীতির শাস্তি কি কেবল স্থানান্তর?

সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার মূল অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি আটক

প্রতিবেদকের নাম

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত শনিবার ১৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে কালিগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর আগে এই হত্যা মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার, যখন শামীম ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত সোমবার শামীম (৩৮) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ধর্ম অবমাননামূলক মন্তব্যের অভিযোগে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শামীমের বাড়িতে হামলার চেষ্টা হয় এবং স্থানীয় একটি বাজারে তাকে প্রথম দফায় মারধর করা হয়।

পরদিন মঙ্গলবার এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও তাকে বের করে এনে মারধর করা হয়। পুলিশ তখন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে মিছিলসহ হাসপাতালে গিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীর ফেসবুক প্রোফাইল ‘Fh Ameni’ থেকে ঘটনার আগে ও পরে বেশ কিছু পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তার হওয়ার আগের দিন শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে করা এক পোস্টে তিনি নিজের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এবং নিজেকে ‘এ যুগের গাজী ইলমুদ্দিন’ হিসেবে দাবি করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘তামাম বিশ্ববাসী আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলেও কিছু যায় আসে না, যদি আল্লাহ পাক আমাকে মাফ করে দেন। এর আগে শুক্রবার রাত ১০টা ২২ মিনিটে শামীমকে নিয়ে আরেকটি পোস্ট দেন ফজলুল হক আমিনী। এরও আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে দেওয়া একটি পোস্টে শামীমের মানসিক অসুস্থতার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি।

শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমানের ছেলে। পরিবারের ভাষ্যমতে, তিনি দীর্ঘদিন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং মাঝে মাঝে অসংলগ্ন আচরণ করতেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শামীম কামিল ও হোমিওপ্যাথি বিষয়েও পড়াশোনা করেছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। ফজলুল হক আমিনীসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি আপনাদের মাঝে থাকবো না, যেকোনো সময় আমাকে এরেস্ট করা হবে, কিন্তু মোনাজাতে আমাকে শামিল রাখবেন।’। কখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেন, আবার কখনো অসংলগ্ন আচরণ করতেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ