কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী। স্থানীয় পর্যায়ে এক বিদেশি পাত্রের সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে গতকাল রোববার বিকেলে প্রশাসন সেখানে অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অপরাধের দায়ে কিশোরীর বাবাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিদেশি পাত্র পেয়ে কিশোরীকে বিয়েতে রাজি করানো হয়। খবর পেয়ে তিনি ওসি ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ও বিয়ে বন্ধ করে দেন। তাই সে এই বিয়েতে অসম্মতির কথা প্রশাসনকে জানায়নি বা জানাতে চায়নি।
অভিযান পরিচালনাকারী মেঘনা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলীন জানান, পরিবারের সবার সম্মতিতে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। এক বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত কিশোরীর বাবা মেয়েকে বিয়ের জন্য রাজি করিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় একজন সচেতন নাগরিক বিষয়টি মুঠোফোনে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খাদিজা আক্তারকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলীন আরও বলেন, কিশোরী নিজে থেকে বিয়ের বিষয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি, কারণ তাকে বিয়ের জন্য আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার জন্মনিবন্ধন যাচাই করে ১৫ বছর বয়স নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিশোরীর শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধে কেবল প্রশাসনের তৎপরতা যথেষ্ট নয়; বরং অভিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারণকে অধিকতর সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এই অভিযানে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম এবং উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। তবে তার জন্মনিবন্ধনে বয়স ১৫ বছর পাওয়া গেছে।