পিরোজপুরে ডিমের বাজারদর বাড়লেও পোলট্রি খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। মুরগির খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডিমের বাড়তি দামের কোনো সুফলই পাচ্ছেন না তারা। লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে জেলার প্রায় ৩০০টি খামার বর্তমানে বন্ধের পথে। জাগো নিউজের তথ্যানুযায়ী, জেলায় বছরে প্রায় ৩১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি। সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন হয় নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলায়।
খামারিদের দেওয়া তথ্যমতে, জুলাই মাসের শুরুতে প্রতি ডজন ডিম ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হলেও আগস্টের শুরুতে তা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ডজনপ্রতি প্রায় ২০ টাকা দাম বাড়লেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে খামারিদের হাতে বাড়তি মুনাফা থাকছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, যার ফলে খামার থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর আগেই ডিমের দামে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের খামারি ইমন শেখের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কম দামে ডিম কিনে মজুত করে রাখেন এবং পরে চড়া দামে বাজারে ছাড়েন, যার ফলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুর্গাপুর ইউনিয়নের খামারি প্রসেনজিৎ হাওলাদার জানান, সিন্ডিকেট না ভাঙলে এবং খাবার ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে না আনলে খামারিদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। নেছারাবাদের দৈহারি ইউনিয়নের খামারি ফিরোজ শেখ জানান, মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি এবং ঋণের চাপে অনেক খামারি এরই মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ডিমের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত মাসের তুলনায় আগস্টে ডিমের বেচাকেনা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, মাছ-মাংসের দাম নাগালের বাইরে থাকায় ডিমই ছিল সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস, কিন্তু এখন তাও কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার সিকদার জানান, পিরোজপুরে সাড়ে চার হাজারের বেশি পোলট্রি খামার রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ৩০০ খামার বন্ধের উপক্রম হয়েছে, যদিও এর মধ্যে নতুন করে প্রায় ১৬০টি খামার গড়ে উঠেছে। তিনি আরও জানান, খামারি থেকে ভোক্তার হাতে ডিম পৌঁছাতে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হয়, যার মূল কারণ মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ।
পিরোজপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ পোলট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে খামারিরা উৎপাদন খরচ কমানো, পোলট্রি খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই শিল্প আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।