ইউনেস্কোর ৪৩তম সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করায় প্যারিসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহাকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করেছেন। শুক্রবার বিকেলে প্যারিসের একটি হোটেল বলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও গর্বের আবহ লক্ষ্য করা যায়। কমিউনিটির জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এম এ তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন ও কমিউনিটি নেতা জাহেদুল ইসলাম শিপার। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফবিজেএ’র মুখপাত্র মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ এবং মানপত্র পাঠ করেন সাংবাদিক তানভীর আহমেদ তোহা।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই অর্জন বাংলাদেশের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রবাসীদের জন্য এটি এক বড় অনুপ্রেরণা। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রাষ্ট্রদূত তালহা বলেন, জাপানের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপরীতে এই জয় মোটেও সহজ ছিল না। তিনি এই সাফল্যকে কেবল নিজের নয়, বরং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দূতাবাস কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের সম্মিলিত ও নিরলস পরিশ্রমের ফসল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এই অর্জনকে পুরো জাতির সাফল্য বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব ওয়ালিদ বিন কাশেম তার বক্তব্যে বলেন, ইউনেস্কোতে টানা সাতটি নির্বাচনী বিজয় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির শক্তিশালী অবস্থানেরই প্রতিফলন। অনুষ্ঠানে দূতাবাসের পক্ষ থেকে ডিফেন্স এটাচি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি), মিশন উপপ্রধান কাজী এহসানুল হক, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান এবং দ্বিতীয় সচিব কে এফ এম শারহাদ শাকিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কমিউনিটির পক্ষ থেকে আরও বক্তব্য রাখেন এইচ এম রহিম, আবুল খায়ের লস্কর, জুনেদ আহমেদ, এম এ রশীদ পাটোয়ারী, আহমেদ আব্দুল মালেক, আব্দুর রহিম মিয়া, ইমরান আহমেদ, মনোয়ার হোসেন, জাকারিয়া আহমেদ, নাজির উদ্দিন জোসি, শাহানা বেগম ও কাওছার আহমেদ। এছাড়া শহিদুল ইসলাম, খালেদ মাহমুদ, ওমর ফারুক, লায়েক আহমেদ তালুকদার, কুতুব উদ্দিন জিকু, আরাফাত রহমান ও আব্দুল কুদ্দুসসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহার এই আন্তর্জাতিক সাফল্য প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।