শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আগে বিচারের দাবি হাসনাত আবদুল্লাহর ৭ নভেম্বরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি এনসিপি-র ঢাকায় গ্রামপুলিশ মহাসমাবেশে আসার পথে অসুস্থ হয়ে দুই সদস্যের মৃত্যু এআই যুগে সফটওয়্যারের কোয়ালিটি নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাংক এশিয়ায় কল সেন্টার ম্যানেজার পদে নিয়োগ রাষ্ট্রপতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি অর্জন সম্ভব সিলেট টেস্টে হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসে যত রেকর্ড হৃদয়ের রেকর্ড ২৪২ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে লিড পেল বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্যে এনভিআর ফি বৃদ্ধিতে প্রবাসীদের ক্ষোভ ও হাইকমিশনের ব্যাখ্যা

প্রতিবেদকের নাম

যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণের সুবিধার্থে পাসপোর্টে নো ভিসা রিকোয়ার্ড বা এনভিআর ফি ৪৬ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ৭০ পাউন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গত ৪ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়া এই ফি বৃদ্ধির ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে নানা ফোরামে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে দীর্ঘদিন এই কাউন্সিলর সার্ভিস ফি বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হলেও সম্প্রতি তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ই-মেইলে বলা হয়, একদিনের নোটিশে সরকার নো-ভিসার ফি বৃদ্ধি করেছে। অথচ এত দ্রুত নো ভিসার ফি বৃদ্ধির কারণে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি করা হবে বলে আমরা মনে করি।

এই পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি আপসানা বেগম সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে হাইকমিশনে চিঠি দিয়েছেন। একইভাবে, বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের পক্ষ থেকেও ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মোহাম্মদ হযরত আলী খানের কাছে ই-মেইল পাঠিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের হতাশা ও উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরামর্শ বা প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই আকস্মিকভাবে এই ফি বাড়ানো হয়েছে। তারা এনভিআর ফি পুনরায় ৪৬ পাউন্ডে ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। মাহবুব আলী খানশূর, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি।

প্রবাসীদের উদ্বেগ ও ক্ষোভের প্রেক্ষিতে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন গত ১১ ডিসেম্বর একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেছে। হাইকমিশন জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কনস্যুলার সেবা ফি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১১ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সেবার ফি সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল।

হাইকমিশন এনভিআর ফি-এর সাথে অন্যান্য ভিসার ফির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এনভিআর ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর, যার জন্য ফি মাত্র ৭০ পাউন্ড। অন্যদিকে টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ ছয় মাস হলেও এর ফি ১০৫ পাউন্ড এবং অন্যান্য ভিসার ক্ষেত্রে ৫ বছরের মেয়াদে ফি ৬৯৫ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছিল গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইউকে। বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার আতাউর রহমান। সাধারণ সম্পাদক আলহাজ খসরু খানের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস রিজিওনের সভাপতি ফখর উদ্দিন। সভায় প্রবাসীরা এনভিআর ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান।

হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ভিসা ফি সংক্রান্ত সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানোসহ বিনিয়োগ ও ভ্রমণের মাধ্যমে মাতৃভূমির উন্নয়নে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন, তা হাইকমিশন স্বীকার করেছে। তবে ফি পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি প্রশাসনিক ও পর্যালোচনামূলক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠায়, বিনিয়োগ ও হলিডে করে মাতৃভূমির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ