মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব শানবান্দা এলাকায় শুক্রবার রাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তাঁর ছেলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাঁদের পথরোধ করে রড দিয়ে পিটিয়ে সোনা, রুপা ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। এ সময় আতঙ্ক ছড়াতে ছিনতাইকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হামলায় ব্যবসায়ী, তাঁর ছেলে ও এক প্রতিবেশীসহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন পূর্ব শানবান্দা গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পতিত পবন শীল (৭২), তাঁর ছেলে প্রবীর কুমার শীল (৩২) এবং প্রতিবেশী মনোরঞ্জন পাল (৫০)।
ভুক্তভোগী প্রবীর কুমার শীল জানান, গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে দোকান বন্ধ করে একটি ব্যাগে করে প্রায় ৬০ ভরি রুপা, দুই আনা সোনা ও নগদ ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে বাবার সঙ্গে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চারজন দুর্বৃত্ত তাঁদের পথরোধ করে লোহার রড দিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় তাঁর বাবা পবন শীল মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশী মনোরঞ্জন পাল এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা তাঁকেও রড দিয়ে আঘাত করে আহত করে। পরে দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মালামালসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে গুরুতর আহত পবন শীলকে ভর্তি করা হয় এবং অন্য দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে মাটিতে পড়ে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের একটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অপরাধীরা সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পুলিশ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।