সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার জনপ্রতি ঋণের বোঝা ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা: জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ফেনীতে পুলিশ পরিচয়ে মোবাইল তল্লাশি: তিন যুবক কারাগারে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে ঢাকাবাসীর মাথাপিছু আয় ৫,১৬৩ ডলার, ডিসিসিআইয়ের নতুন সূচক প্রকাশ ১১১ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ৭৩তম মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জিতলেন জোহেইরি মোলা মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে সংস্কার ও অপপ্রচার রোধের আহ্বান ওলামা পরিষদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নাশকতার আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে প্রসিকিউশন লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে দাদা ও দুই নাতি-নাতনির মর্মান্তিক মৃত্যু চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অপরাধ পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

বলিউডের পর্দার আড়ালে কোটি টাকার অদৃশ্য যুদ্ধ: তারকাদের ভাবমূর্তি নষ্টের নেপথ্যে কী?

প্রতিবেদকের নাম

বলিউডের লড়াই এখন আর কেবল সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই। একসময় ভালো অভিনয়, বক্স অফিসের সাফল্য কিংবা নির্মাতার মুন্সিয়ানা ছিল প্রতিযোগিতার মূল ভিত্তি। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই লড়াইয়ের বড় একটি অংশ স্থানান্তরিত হয়েছে মুঠোফোনের স্ক্রিনে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে ভুয়া অ্যাকাউন্ট, বিভ্রান্তিকর পোস্ট, ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ এবং সংগঠিত ট্রোল বাহিনীর মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী তারকা কিংবা সিনেমাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অদৃশ্য যুদ্ধে কোটি কোটি রুপি পর্যন্ত ব্যয় করা হচ্ছে।

এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বলিউডের তারকাদের জনসংযোগ কৌশলের একটি বড় অংশ এখন ‘অনলাইন রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট’ বা ওআরএম-এর দখলে। আগে এর কাজ ছিল শিল্পীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করা, কিন্তু বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠান এই কাজের আড়ালে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো, নেতিবাচক প্রচারণা চালানো এবং কৃত্রিম জনমত তৈরির মতো অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।

গুজব ছড়ানোর প্রক্রিয়াটি প্রায়ই খুব সাধারণ কোনো পোস্ট থেকে শুরু হয়। যেমন, কোনো অভিনেতা বিদেশে ছুটি কাটানোর ছবি দিলে তার সঙ্গে অন্য কোনো তরুণীর ছবির মিল খুঁজে বের করে জল্পনা তৈরি করা হয়। এরপর রেডিট, এক্স কিংবা ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া হয় নানা দাবি। অভিনেতা কার্তিক আরিয়ানের ক্ষেত্রে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে এক তরুণীকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। পরে ওই তরুণী নিজেই স্পষ্ট করেন যে তিনি কার্তিককে চেনেন না, কিন্তু ততক্ষণে গুজবটি বিপুল মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল।

এই অনলাইন নেটওয়ার্কের কার্যপদ্ধতি অত্যন্ত সুসংগঠিত। শত শত অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের মন্তব্য বা ইঙ্গিত বারবার সামনে আনা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মনে হয় এটিই জনমত। এছাড়া ‘পেইড মাস রিপোর্টিং’-এর মতো কৌশলও ব্যবহার করা হয়। অভিনেতা ও নির্মাতা অংশুমান ঝা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এমন রিপোর্ট চালানো হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর প্রোফাইলের কার্যক্রম সীমিত করা বা প্ল্যাটফর্ম থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শিল্পীদের পেশাগত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিনেমার প্রচার থেকে শুরু করে ব্র্যান্ডের কাজ—সবই এখানে নির্ভর করে। ফলে কোনো শিল্পীর অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, পেশাগত ক্ষতির কারণও হয়ে দাঁড়ায়। এই অদৃশ্য যুদ্ধের পেছনে অর্থের অঙ্কটাও বিশাল। ছোট পরিসরের প্রচারণায় কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ রুপি খরচ হলেও, বড় সিনেমা বা তারকার ক্ষেত্রে এই ব্যয় কয়েক কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই অনলাইন আক্রমণের শিকার শিল্পীরা চরম মানসিক চাপের মুখে পড়েন। অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা বোস জানিয়েছেন, তিনি শুধু প্রকাশ্যে নয়, ব্যক্তিগত ইনবক্সেও হয়রানির শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক মতপ্রকাশের পর তাঁর ও তাঁর সঙ্গীর ওপর এই আক্রমণ চালানো হয়। অভিনয় প্রশিক্ষক ও নির্মাতা অতুল মঙ্গিয়ার মতে, ভারতে অন্তত এক দশক ধরে পেইড ট্রোলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় প্রচারণার ধরন এতটাই পরিকল্পিত থাকে যে তা সহজেই চোখে পড়ে, কিন্তু যখন তা শিল্পীর পরিবার বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

বলিউডে এই ধরনের সংগঠিত অনলাইন ঘৃণার অভিযোগ নতুন নয়। ২০২১ সালে অভিনেতা আরবাজ খান মন্তব্য করেছিলেন, বলিউডকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ঘৃণার ঢেউ তৈরি হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ পরিকল্পিত। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে অভিষেক বচ্চনের বিরুদ্ধে ‘পেইড পিআর’ ও ‘পুরস্কার কেনা’র অভিযোগ উঠলে তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, তাঁর একমাত্র জবাব হলো কঠোর পরিশ্রম।

এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, তারকা যত বড়ই হোন না কেন, ডিজিটাল যুগে তাঁর ভাবমূর্তি দ্রুত বদলে দেওয়া সম্ভব। সত্য প্রকাশ পাওয়ার আগেই প্রথম যে ধারণাটি মানুষের মনে গেঁথে যায়, তা পরিবর্তন করা কঠিন। সংগঠিত ট্রোলিংয়ের মূল শক্তিই হলো সত্যের আগে একটি নির্দিষ্ট ধারণা প্রতিষ্ঠা করা।

প্রতিযোগিতা শিল্পের বিকাশে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু তা যখন অভিনয় বা গল্পের বদলে ভুয়া প্রচারণা ও চরিত্রহননের লড়াইয়ে পরিণত হয়, তখন পুরো শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দর্শক বিভ্রান্ত হন এবং শিল্পীর মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের সাফল্য কি দর্শকের রুচি ও কাজের মান দিয়ে নির্ধারিত হবে, নাকি কোটি টাকার পেইড প্রচারণায় তৈরি কৃত্রিম জনমত দিয়ে? এই প্রশ্নটি এখন বলিউডে ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কে ভালো অভিনয় করলেন, কার সিনেমা বক্স অফিসে এগিয়ে গেল, কোন নির্মাতার ছবি সমালোচকদের প্রশংসা পেল—এসবই প্রতিযোগিতার মূল জায়গা ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঝলমলে বলিউডের আড়ালে তাই গড়ে উঠেছে ‘পেইড ট্রোলিং’ বা অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত অনলাইন প্রচারণার এক অন্ধকার জগৎ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছু সময়ের মধ্যেই এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়, যেন বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই দুইয়ের পার্থক্য করাই এখন সবচেয়ে কঠিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর সংগঠিত ট্রোলিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এটাই—তারা সত্য প্রতিষ্ঠার আগে ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে আমরা কি সত্যিই নিজের মতামত তৈরি করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ