বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

সমঝোতার মাধ্যমে সব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়গুলোতে তেমন কোনো বড় মতপার্থক্য নেই। সোমবার ব্যাংককে আয়োজিত এই দুই সংস্থার বার্ষিক সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, কিছু সংস্কার বাস্তবায়নের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চললেও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সব চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব। সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে। এছাড়া বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যজনিত চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের বাড়তি ঋণ সহায়তার বিষয়েও সরকার আশাবাদী।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির শর্তাবলী নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকার চাইছে না একসঙ্গে অনেকগুলো সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া হোক। বরং দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে সংস্কারগুলো এগিয়ে নিতে চায় সরকার, যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।

ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও মূলধন জোগানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতিবছর এ খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। সরকার এর জন্য তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) সহায়তা প্রদানের আগ্রহ দেখিয়েছে এবং বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নে এ চাহিদা পূরণ করা কঠিন।

আমানতকারীদের আস্থার সংকট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংক নিয়ে আগের উদ্বেগ অনেকটাই কেটে গেছে। বর্তমানে ব্যাংকে আমানত বাড়ছে এবং নিট আমানতের পরিমাণ ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও উন্নতির আভাস দেখা যাচ্ছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনরায় আকৃষ্ট করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আবার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জ্বালানি খাতে সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। এছাড়া আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরি করতেও সংস্থাটির সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতির কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে সুফল মিলছে। ইতোমধ্যে আয়কর আদায়ে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়বে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ