সিনিয়র করেসপন্ডেট
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলকে ঘিরে চলমান অস্থিরতা নতুন মাত্রা যোগ দিয়েছে। বিদেশি নাগরিককে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদে নিয়োগের উদ্যোগ, একের পর এক জোষ্ঠ কর্মকর্তা অপসারণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং চাকরিচ্যুতির চিঠি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূর্বে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সেনারগাঁও হোটেলের জিএম পদে ভারতীয় নাগরিক দিবাকর দিউজাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পাসপোর্টে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হয় এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্নের জন্ম দেয়। অন্যদিকে, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রাহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন, যা কর্মকর্তা- বর্মচারীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবনাকে অনেকেই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও ব্র্যান্ড পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদিনের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। বেতন বৃদ্ধি সীমিত করা, পদোন্নতি কমিয়ে আনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা সংকুচিত করার ফলে কর্মপরিবেশে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল অর্থ বিভাগের প্রথম ও এক্সিকিউটিভএসিট্যান্ট ম্যানেজার (ফাইন্যান্স) আসিফ আহমেদের চাকরিচ্যুতি। অভিযোগ রয়েছে, দুই দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হঠাৎ অর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে অনেকেই পরিকল্পিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে বিতর্ক থামার আগেই নতুন করে আরও একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২ জুন জারি করা এক চিঠিতে হাউসকিপিং বিভাগের ম্যানেজার মোহাম্মদ নাফিউগাম একে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। চিঠিতে তার চাকরির চুক্তির একটি ধারা উল্লেখ করে তাকে ১২০ দিনের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হোটেলের সম্পদ ও দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একাট ছিল অথ বিভাগের প্রথম ও ব্রাক্সাকডাটভএসিট্যান্ট ম্যাসেজার (ফাইন্যান্স) আসিফ আহমেদের চাকরিচ্যুতি। অভিযোগ রখেছে, ই দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হঠাৎ অর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে অনেকেই পরিকল্পিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে বিতর্ক থামার আগেই নতুন করে আরও একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২ জুন জারি করা এক চিঠিতে হাউসকিপিং বিভাগের ম্যানেজার মোহাম্মদ নাফিউগাম একে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। চিঠিতে তার চাকরির চুক্তির একটি ধারা উল্লেখ করে তাকে ১২০ দিনের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হোটেলের সম্পদ ও দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই অপসারণের ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশই পরিকল্পিত ভাবে কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র মূলক প্রক্রিয়ার অংশ। একের পর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অপসারণের ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তন্ত্রা মনে করছেন।
বিদেশি জিএম নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন বিদেশি জিএমের জন্য বিপুল পরিমাণ বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের বক্তব্য, যখন ব্যয় সংকোচনের কথা বলে পুরোনো কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা সীমিত করা হচ্ছে, তখন বিদেশি কর্মকর্তা নিয়োগে বড় অংকের ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, সোনারগাঁও হোটেল কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলছেন, “একটি ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে যেভাবে বিতর্ক, কর্মকর্তা অপসারণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, তা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক। বিষয়গুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অতপর চাকরী বঞ্চিত সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন অন্যায় ও দুর্নীতির বিষয় গুলি নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে অন্যায়, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি গত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন এবং চাকরী বঞ্চিত গণ তাদের চাকরী পূর্ণ বহাল করণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এর মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।