রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয়: টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সংকট কাটাতে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: মার্চে ৩০০ কোটি ডলার ছাড়ানোর হাতছানি প্রেক্ষাপট: ভুল পরিচয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন সোনা মিয়া গ্যাস সংকট নিরসনে সময় প্রয়োজন, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে শঙ্কা: কাটছাঁট না করার আহ্বান সরকারি কর্মচারী সমিতির বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বাস্তবতার সংকট ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০

গ্যাস সংকট কাটাতে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

প্রতিবেদকের নাম

দেশে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সংকট মোকাবিলায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানিই বর্তমানে একমাত্র তাৎক্ষণিক উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এলএনজি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখনো বিদ্যমান। বর্তমানে মাত্র দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর পুরো দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা নির্ভরশীল। এর মধ্যে কোনো একটি টার্মিনাল সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়লে তার নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সরাসরি পড়ে, যা সম্প্রতি একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।

কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে বর্তমানে আংশিক গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। টার্মিনালটির ক্ষতিগ্রস্ত বয়লার মেরামতের কাজ চলছে। আগে ধারণা করা হয়েছিল যে, এটি পুনরায় চালু করার আগে পরীক্ষার জন্য টার্মিনালটি টানা ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে, যা গ্যাস সরবরাহকে আরও কমিয়ে দিত। তবে এখন কর্তৃপক্ষ টার্মিনালটি পুরোপুরি বন্ধ না করেই বয়লারটি সচল করার একটি যৌক্তিক সমাধানের পথ খুঁজছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত না হলেও, সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে টার্মিনাল চালুর আগেই এলএনজির বিকল্প জাহাজ প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এলএনজি আমদানির সূচি অনুযায়ী সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকার সময় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সমন্বয় করতে গিয়ে সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। এখন টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে পুনরায় নতুন করে সমন্বয় করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সরকার আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া স্থলভাগে একটি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য পরামর্শক নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

তবে এলএনজি আমদানির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয় বলে মনে করছে সরকার। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সরকার এখন দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রবক্ষে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে বিদেশি কোম্পানিগুলো ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্যাস আমদানির উৎস, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি, স্পট মার্কেট এবং পাইপলাইন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে পারলেই আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ