মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রেক্ষাপট: অবৈধ ২৫০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দুই দিন মর্গে পড়ে ছিল কিশোরের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি, অপহরণের নাটক সাজিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হলো কারাবন্দি ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের ঢাকায় ২০০ বৈদ্যুতিক বাস কিনছে সরকার, অর্ধেকই বরাদ্দ নারীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মাত্র তিনজন শ্রোতার জন্য ১২ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেলেন সংগীতশিল্পী একন খাবারে খাসির মাংসের অভাব: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের পিঁড়ি ছেড়ে চলে গেলেন প্রবাসী বর এপ্রিল-মার্চ হবে নতুন অর্থবছর: ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হচ্ছে বড় পরিবর্তন এসএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণে রেকর্ড ১৩ লাখ আবেদন, নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশে: রয়টার্স/ইপসোস জরিপ

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশে: রয়টার্স/ইপসোস জরিপ

প্রতিবেদকের নাম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন হার তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক আশঙ্কা করছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। সোমবার শেষ হওয়া রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। চার দিন ধরে পরিচালিত এই জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন। বিপরীতে ৬৪ শতাংশ তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে শেষ হওয়া জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার ছিল ৩৫ শতাংশ। বর্তমান হার তার দ্বিতীয় মেয়াদের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম। একই সঙ্গে এটি তার প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পাওয়া সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশ অনুমোদন হারের সমান।

২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার সময় ট্রাম্প দেশের অর্ধেকেরও কিছু কম মানুষের সমর্থন পেয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে হামলা চালানোর নির্দেশ দেয়ার পর তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। এই সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করা ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদেরও উদ্বেগ বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। কিন্তু ইরান শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং যুদ্ধের তীব্রতা কমে এলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এখনো অনেকটাই আটকে রয়েছে।

রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ ডেমোক্রেট এবং ৭১ শতাংশ রিপাবলিকান একই মত দিয়েছেন। অন্যদিকে মাত্র ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংঘাত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, পেট্রোলের জন্য সামান্য বেশি অর্থ দেয়া মেনে নেয়া উচিত। তার যুক্তি, এর বিনিময়ে একটি অত্যন্ত দুষ্ট দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানো সম্ভব হবে। যুদ্ধ চলাকালে ট্রাম্প কখনো সংঘাত আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো বলেছেন শান্তিচুক্তি খুব শিগগিরই হতে পারে। তবে সর্বশেষ জরিপে মাত্র প্রতি পাঁচজনের একজন মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধটি সার্থক হয়েছে। রিপাবলিকানদের মধ্যেও মাত্র অর্ধেক এ যুদ্ধকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন।

অর্থনীতি ও অভিবাসন ইস্যুতেও ট্রাম্পের দল চাপে রয়েছে। চলতি মাসে রয়টার্স/ইপসোসের বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্রেটদের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন ভোটাররা। সর্বশেষ জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্রেটরা বেশি দক্ষ হবে। বিপরীতে ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলাতেও ডেমোক্রেটদের বেশি সক্ষম বলে মনে করছেন ভোটাররা। ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়ে অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের অবস্থান ডেমোক্রেটদের তুলনায় বেশি জনপ্রিয় ছিল। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ট্রাম্পের নির্দেশে দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। তবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে, অভিবাসন ইস্যুতেও রিপাবলিকানরা সমর্থন হারাচ্ছে।

সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোস জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের ৪০ শতাংশ বলেছেন, অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের অবস্থান ভালো। ডেমোক্রেটদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ শতাংশ। মাত্র ২ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান ট্রাম্পের মেয়াদে রিপাবলিকানদের সবচেয়ে কম ব্যবধানের নেতৃত্ব। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানরা ডেমোক্রেটদের চেয়ে ২৬ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। অনলাইনে পরিচালিত রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। যুদ্ধ এবং পেট্রোলের দাম নিয়ে উদ্বেগ আগামী ৩রা নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রতিনিধি পরিষদে তাদের অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ডেমোক্রেটরা এখন সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ