মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রেক্ষাপট: অবৈধ ২৫০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দুই দিন মর্গে পড়ে ছিল কিশোরের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি, অপহরণের নাটক সাজিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হলো কারাবন্দি ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের ঢাকায় ২০০ বৈদ্যুতিক বাস কিনছে সরকার, অর্ধেকই বরাদ্দ নারীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মাত্র তিনজন শ্রোতার জন্য ১২ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেলেন সংগীতশিল্পী একন খাবারে খাসির মাংসের অভাব: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের পিঁড়ি ছেড়ে চলে গেলেন প্রবাসী বর এপ্রিল-মার্চ হবে নতুন অর্থবছর: ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হচ্ছে বড় পরিবর্তন এসএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণে রেকর্ড ১৩ লাখ আবেদন, নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশে: রয়টার্স/ইপসোস জরিপ

প্রেক্ষাপট: অবৈধ ২৫০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

প্রতিবেদকের নাম

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে বিগত পাঁচ মাসে সারা দেশে ২৫০ টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে। বেশ কিছু অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজেও উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অভিযান চালানো হয়েছে। ২৫০ টির বেশি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে এবং ২০০টি ক্লিনিককে সংশোধনের সময় দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই, তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আরও ২ থেকে ৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলো যাচাই বাছাই করে অনুমোদন করা হবে।

স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম এবং নিম্নমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে অবস্থিত।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এরপর রংপুরে ১১১, ময়মনসিংহে ২৫২, রাজশাহীতে ৫৫, চট্টগ্রামে ২৪০, বরিশালে ৪৮, খুলনায় ১৫৬ এবং সিলেটে রয়েছে ৮টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান। গত কয়েক মাস অভিযান চালিয়ে রাজধানীর প্রায় ২৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তদন্তকারী দল এসব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত করেন এবং তাদের মধ্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং কিছু প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও ফরিদপুরে চারটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ৬টি ক্লিনিক, শরীয়তপুরে ২টি ক্লিনিক, নরসিংদীতে ২টি, পাবনায় ২টি ক্লিনিক, মানিকগঞ্জে ২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডে ১টি, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১টি ক্লিনিকসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ২ শতাধিক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও ব্লাড ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে কোনো আপস করা হবে না। তিনি বলেন, রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। যারা অবৈধভাবে হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসস’কে বলেন, সারা দেশে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালের অনিয়ম দূরীকরণ এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে। অভিযানের অংশ হিসেবে লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা, সিলগালা বা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভুয়া ডাক্তার, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই ধারাবাহিক অভিযান দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ