শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের ৬৪ জেলার তদারকিতে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে নতুন দায়িত্ব বিতর্ক ও অস্থিরতার মুখে অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল: সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত কোচ ও অধিনায়ক ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক, রিমান্ড মঞ্জুর গঙ্গা চুক্তি ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সরকারের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়: ইরানের প্রেসিডেন্ট সেপ্টেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা, ডিসেম্বরে ভোটের লক্ষ্য ইসির সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আচরণে ক্ষুব্ধ বিরোধীদলীয় নেতা, দাবি করলেন দুঃখ প্রকাশের মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান সদস্যদেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর নির্ভরশীল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেম ও রোমান্স নির্ভর নাটক-সিনেমা বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ নওগাঁর মান্দায় মেয়েদের প্রশিক্ষণ বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

সক্রিয় ৩৮৬ কিশোর গ্যাং: পুলিশের তালিকায় সদস্য সংখ্যা সোয়া ৪ হাজারের বেশি

প্রতিবেদকের নাম

সারা দেশে কিশোর অপরাধীদের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে অন্তত ৩৮৬টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা সোয়া ৪ হাজারের বেশি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১৫৯টি গ্যাং সক্রিয়, আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন মহানগর ও জেলায় রয়েছে আরও ২২৭টি গ্যাং।

পুলিশের তথ্যমতে, ঢাকার বাইরে সক্রিয় ২২৭টি গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা ২ হাজার ৫৫০ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে সবচেয়ে বেশি ৯৮টি গ্যাং রয়েছে। এছাড়া সিলেটে ১৫টি, রাজশাহীতে ১৩টি, গাজীপুর মহানগরে ১৩টি এবং খুলনায় ৭টি গ্যাং সক্রিয়। জেলা পর্যায়ে নোয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি ২৫টি গ্যাংয়ের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীতে সক্রিয় ১৫৯টি গ্যাংয়ে মোট ১ হাজার ৮১২ জন সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ২৭টি গ্যাং রয়েছে, যেখানে সদস্য সংখ্যা সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েছে। এছাড়া পল্লবী থানা এলাকায় ১৬টি, দারুসসালামে ৬টি, শাহআলীতে ৪টি এবং মিরপুর এলাকায় ৩টি গ্যাং সক্রিয়। মিরপুর বিভাগের সাত থানা এলাকা মিলিয়ে মোট ৩৫টি গ্যাংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, হামলা, দখল ও আধিপত্য বিস্তারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে গ্যাংগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, পল্লবী ও খিলগাঁও এলাকায় এদের তৎপরতা তুলনামূলক বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে এসব কিশোরের মধ্যে।

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘হিরোইজম’ দেখানোর প্রবণতা কাজ করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়লেও বর্তমানে পুলিশের অভিযান ও আইনগত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হকের মতে, সুবিধাবঞ্চিত ও কর্মহীন কিশোরদের পাশাপাশি রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক স্বার্থে কোনো কোনো ‘বড় ভাই’ বা পৃষ্ঠপোষক এদের ব্যবহার করছে, যা অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি মনে করেন, শুধু কিশোরদের শাস্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বরং নেপথ্যে থাকা সুবিধাভোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়, অভিভাবকদের উদাসীনতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার, মাদকের বিস্তার এবং সুস্থ বিনোদনের অভাব কিশোরদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পুলিশ বলছে, কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বাড়ানো গেলে গ্যাং কালচার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজধানীর মধ্যে মোহাম্মদপুরে সবচেয়ে বেশি ২৭টি গ্যাং রয়েছে, যেখানে সদস্য সংখ্যা সাড়ে ৩০০-এর বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে জোর করে গলিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে খোঁজার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খিলগাঁও এলাকায় বিভিন্ন গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে বেশির ভাগের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর্থিক স্বার্থ জড়িয়ে পড়ায় তারা সহজেই সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনার তাগিদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ