নাটোরের লালপুরে ফুটবল খেলায় অতিথি না করার জেরে ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং করানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা মারুফ আলীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বহিষ্কৃত হওয়ার পর বুধবার দুপুরে লালপুরের গোপালপুর রেলগেটে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। মারুফ আলী দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা মাইকিংয়ের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি জানান, কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে তিনি গ্রামপ্রধান আবুল কালাম আজাদের কাছে স্থানীয় কবরস্থানের সরকারি অনুদানের হিসাব চেয়েছিলেন। সেই হিসাব চাওয়ার জের ধরেই গ্রামপ্রধান তার বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ তুলেছেন, যা মূলত একধরনের ‘ভিলেজ পলিটিকস’ বা গ্রাম্য রাজনীতির অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে মারুফ আলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি হারুন অর রশিদকে নিজের ‘রাজনৈতিক শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ওই নেতার চাপেই জেলা ছাত্রদল তাকে বহিষ্কার করেছে। মারুফের ভাষ্যমতে, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সালাম এবং হারুন অর রশিদের ঘনিষ্ঠজনরা মিলে জেলা নেতাদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে এই বহিষ্কারাদেশ দিতে বাধ্য করেছেন। এ সময় তিনি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনের উদ্দেশে বলেন, ‘বড় আপু, আপনি এসব চাটুকার ও নাম ভাঙিয়ে চলা ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকবেন।’
মারুফের এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্রামপ্রধান আবুল কালাম আজাদ বলেন, মারুফ তার গ্রামেরই ছেলে এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ নেই। তিনি মিথ্যা অভিযোগ করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ বলেন, মারুফ কেন তাকে রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে অভিহিত করলেন, তা তার বোধগম্য নয়। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের এই কর্মীর সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই এবং তাকে বহিষ্কারের জন্য তিনি বা তার অনুসারী কেউ কোনো চাপ প্রয়োগ করেননি। এর আগে ফুটবল খেলায় অতিথি না করার ঘটনায় এলাকায় মাইকিংয়ের বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়, যার প্রেক্ষিতেই এই বহিষ্কার ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আমার সম্পর্কে কাল্পনিক অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি বা আমার কোনো লোক তাঁকে বহিষ্কারের জন্য কাউকে চাপ দেয়নি।’।