শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতার কাশীপুরে এক মাস ধরে পানিহীন মুসলিম কলোনি, স্থানীয়দের অভিযোগ বিজেপির বিধায়কের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনের নির্দেশ আইজিপির: পুলিশ সদর দপ্তরে ত্রৈমাসিক সম্মেলন পিওকে ভারতের দখলে নেওয়া উচিত, যাদবপুরে মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৬ জন প্রেক্ষাপট: ভালো আইনজীবী হতে শুধু আইন পড়লেই হবে না, মামলার খুঁটিনাটিও জানতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর প্রেক্ষাপট: পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১,৮৫৫ পদে নিয়োগের ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল ২০২৭ পর্যন্ত নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন অপু বিশ্বাস আল তাউনকে হারিয়ে জয়ের ধারায় আল নাসর, হাজার গোলের পথে রোনালদো খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য সংগ্রহই আমার প্রধান লক্ষ্য: খাদ্যমন্ত্রী শহীদদের স্বপ্ন পূরণে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পাবনার চাটমোহরে প্রদীপের আলোয় ফিরে এল হারিয়ে যাওয়া পুঁথিপাঠের ঐতিহ্য

প্রতিবেদকের নাম

আধুনিক প্রযুক্তির দাপট আর বিনোদনের নতুন সব মাধ্যমের ভিড়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পুঁথিপাঠ আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এই হারানো সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ও ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে পাবনার চাটমোহরে আয়োজন করা হয় এক ব্যতিক্রমী পুঁথিপাঠের আসর। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারা পাড়া গ্রামের কিতাব প্রামাণিকের বাড়ির উঠানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটির বিশেষত্ব ছিল এর পরিবেশনায়। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণ ঐতিহ্যের আবহ ধরে রাখতে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার এড়িয়ে চারপাশ অন্ধকার রাখা হয়। পরিবর্তে কেবল কুপি বাতি ও হারিকেনের স্নিগ্ধ আলোয় আসরটি সাজানো হয়েছিল। বাঁশের চাটাই ও পাটিতে বসে গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো এই আয়োজন উপভোগ করেন, যা উপস্থিত সবাইকে যেন অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এই আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন চিকিৎসক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এস এম আতিকুল আলম এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান দুলাল ‘হানিফ পালোয়ান ও বিবি সোনাভান’ এবং মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক ‘গাজী কালু ও চম্পাবতী’ পুঁথি থেকে সুর করে পাঠ পরিবেশন করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন সাজল বিশ্বাস, বিপ্লব আচার্য, নিয়ামুল মুক্তা ও শিক্ষক আবদুল মান্নানসহ স্থানীয় একদল তরুণ। আয়োজক চিকিৎসক আতিকুল আলম জানান, একসময় দিনের ক্লান্তি শেষে গ্রামের মানুষ সুরের মূর্ছনায় পুঁথি শুনে বিনোদন পেতেন। কিন্তু স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও মুঠোফোনের যুগে সেই শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব শিকড় চেনাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে চলনবিল অঞ্চলে এমন আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠক এস এম মিজানুর রহমান নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে বলেন, আগে দাদা-নানাদের মুখে পুঁথি শোনার সুযোগ হতো, কিন্তু এখন আর সেই দক্ষ পাঠক পাওয়া যায় না। লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাসের এই অংশটুকু টিকিয়ে রাখতে পুঁথিপাঠের মতো আয়োজনগুলো সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আগ্রহ দেখে আয়োজকরা ভবিষ্যতে এই ধারা বজায় রাখার বিষয়ে আশাবাদী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ