বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠনের ডাক নেতানিয়াহুর দেশ থেকে কবে বিদায় নেবে ভ্যাপসা গরম? গাজীপুরে পোশাকশ্রমিককে নিরাপত্তা ঘটনায় করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাংকসগিভিং ভ্রমণে বিমানভাড়া বৃদ্ধি, কমছে যাত্রী সংখ্যা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি: মোট মৃত্যু ৪০০ ছাড়াল জাপানে প্রধানমন্ত্রী তারেক-তাকাইচির বৈঠক: এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের আশা আইজিপির বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করবে: রুহুল কবির রিজভী রমজানে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের মায়ের নাম সংশোধনে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন ইয়াকুব আলী বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় জাপানি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা চাইলেন জুবাইদা রহমান

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী: জাতীয় সংসদে ডা. শফিকুর রহমান

প্রতিবেদকের নাম

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদে বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত এই আইনের বেশ কিছু ধারা পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর চিরস্থায়ী বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বিলটি বর্তমান অধিবেশনে পাস না করে শরিয়াহ আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানোর জোর দাবি জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ প্রদত্ত উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টনের বিধানের সঙ্গে এই আইনের প্রয়োগ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন রয়েছে। তিনি এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করেন, যেখানে উত্তরাধিকার বণ্টনের মূলনীতি ও এর গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তার মতে, উইল বা হেবার ক্ষেত্রে গ্রহীতার মালিকানা ভোগের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। মৃত্যুর পর সম্পত্তি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি হেবা নয় বরং ওসিয়তের অন্তর্ভুক্ত, যার সীমা ও নিয়ম কোরআন-হাদিসে সুনির্দিষ্ট করা আছে। প্রস্তাবিত আইনে এসব বিষয় যথাযথভাবে না থাকায় শরিয়াহর মূলনীতির সঙ্গে সংঘাত তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ফকিহ বা মুফতি নই, বরং কোরআনের একজন সাধারণ ছাত্র হিসেবে আমার উপলব্ধির কথা তুলে ধরছি।’ প্রস্তাবিত আইনটি মানুষের ঈমান ও আকিদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এটি বর্তমান আকারে পাস হলে সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এছাড়া প্রকৃত হকদারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পিতা-মাতার অধিকারের বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিলটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে তিনি ইসলামী ফাউন্ডেশনকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন। তার ভাষ্যমতে, ইসলামী ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট আলেম ও স্কলারদের সমন্বয়ে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে তাদের সুপারিশ সংসদের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যদি এই প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়, তবে সম্ভাব্য সামাজিক বিপর্যয় রোধ করা এবং আল্লাহর আইনের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ