বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

জরিমানাও করা হলো: পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লির বিমানবন্দরে হেনস্থার

প্রতিবেদকের নাম

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে ফেরার পথে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান গতকাল মঙ্গলবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা আটকে থাকার ঘটনার মুখোমুখি হন। ‘এসআইএএল প্যারিস ২০২৬’ নামক একটি আন্তর্জাতিক খাদ্যবাণিজ্য প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে রাজ্যে উৎপাদিত বিশেষ ধরনের ছোলা ও রাজমার প্রচার শেষে তিনি দেশে ফিরছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাকে বিমানবন্দর ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার রুপি জরিমানা গুনতে হয় তাকে। শুধু তা–ই নয়, তাঁকে ৫০ হাজার রুপি জরিমানাও করা হয়েছে। কেন জরিমানা, সে বিষয়ে ভগবন্তকে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী নাকি কিছু মালপত্রের সঙ্গে থাকা কিছু জিনিস ঘোষণা করেননি। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থও নাকি তাঁদের সঙ্গে ছিল। রাবণের ঔদ্ধত্যও দসেরার দিন শেষ হয়েছিল।’।

মুখ্যমন্ত্রীর দল আম আদমি পার্টির (আপ) পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। দলের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে হেনস্তা করেছে। আপের অভিযোগ, বিদেশ সফরে যেতে বাধা দিতে না পেরে এই পথ বেছে নিয়েছে কেন্দ্র। এর আগেও চারবার তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে গড়িমসি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে ও আদালতের নির্দেশে তিনি প্যারিস যাওয়ার সুযোগ পান। দেশের কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে দেশেরই কোনো বিমানবন্দরে এভাবে হেনস্তা হতে হয়নি। হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে উপযুক্ত প্রটোকল অনুযায়ী সম্মান দিতে হবে। আদালতের নির্দেশ পেয়ে ফ্রান্স যান।

পাঞ্জাব আম আদমি পার্টির মিডিয়া ইনচার্জ বলতেজ সিং পান্নু এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীকে সশরীরে হেনস্তা করতেই এই বিলম্ব ঘটানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্যারিসের কনসাল জেনারেল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেননি।

পান্নুর ভাষ্যমতে, বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর ওপরমহলের প্রবল চাপ ছিল বলেই তারা এমন আচরণ করেছেন। মালপত্র তল্লাশি ও ঘোষণার অসম্পূর্ণতার অজুহাত দেখিয়ে এই হয়রানি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

দিল্লির আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রের এই ঔদ্ধত্য মেনে নেওয়া যায় না। তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে পাঞ্জাবের শিরোমনি অকালি দলের নেতা বিক্রম সিং মাজিথার কণ্ঠে। তিনি দাবি করেন, নিয়মের চেয়ে বেশি মালপত্র এবং অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি অর্থ সঙ্গে রাখায় মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী গুরপ্রীত সিং কৌরকে নিয়ম মেনেই আটকে রাখা হয়েছিল। দিল্লির আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজও এ নিয়ে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে এক পোস্ট করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপি ও অকালি দলের মধ্যে নতুন করে সমীকরণের চেষ্টা চলছে। কৃষি আইন ঘিরে ২০২৪ সালে দুই দলের সম্পর্ক ছিন্ন হলেও এখন তারা আবার কাছাকাছি আসছে। মাজিথার এই অবস্থান সেই জোটেরই ইঙ্গিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে পাঞ্জাবের নির্বাচনী লড়াই আপ, কংগ্রেস ও বিজেপি-অকালি জোটের মধ্যে ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমে বলা হয়, তাঁর মাল আসতে দেরি হচ্ছে। তারপর বলা হয়, সেসব পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিতর্কিত কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে দুই দলের বিচ্ছেদ ঘটে।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী যখন দিল্লি বিমানবন্দরে এসব জটিলতায় ব্যস্ত, একই সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পাঞ্জাব সফরে ছিলেন। তিনি সেখানে আপ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাজ্য সরকার মাদকের কারবার বন্ধ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং রাজ্যকে মাদকাসক্ত করে তুলেছে। তিনি ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঞ্জাবকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ