বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন

সাজেক থেকে নিরাপদে ফিরলেন প্রায় তিন হাজার পর্যটক

প্রতিবেদকের নাম

আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক বৃহস্পতিবার নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে ফিরে এসেছেন। আজ বেলা একটার দিকে কড়া নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় তাদের গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে পৌঁছায়। ফেরার পথে অবরোধকারীদের বাধা ও গোলাগুলির ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, সব পর্যটক নিরাপদে গন্তব্যে ফিরেছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ ঘোষণা এবং সড়ক অবরোধের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আব্দুল মালেক জানান, পরিবারের আট সদস্য নিয়ে বুধবার তিনি সাজেক গিয়েছিলেন এবং শুক্রবার ফেরার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ অবরোধের ঘোষণা আসায় তাড়াহুড়ো করে ফিরতে হয়েছে। উজো বাজারের কাছে অবরোধকারীরা রাস্তা আটকে রাখলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে গাড়িগুলো বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাজেকের সাম্পারি গেস্টহাউসের কর্মী জুগেশ্বর ত্রিপুরা জানান, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণায় বাড়ি ফেরার পথে উজো বাজারে বাধার মুখে পড়েন তারা। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় গাড়িগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে, খাগড়াছড়িতে ফিরে অনেক পর্যটক হোটেল কক্ষ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। মিজানুর রহমান নামে একজন পর্যটক জানান, শুক্রবার পর্যন্ত সাজেকে থাকার পরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে আগেভাগেই ফিরতে হয়েছে, এখন শহরের হোটেলগুলোতে পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে। বাঘাইছড়ির উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা অবস্থান নিলে পর্যটকবাহী গাড়িবহর আটকে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যেতে বাধ্য হন। বেলা ১১টার দিকে গাড়িবহর উজো বাজার এলাকা ত্যাগ করে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।

সাজেক পর্যটন সড়কে এই অবরোধের ডাক দিয়েছে ‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’। ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় এবং এর আগে ১১ অক্টোবর একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছিল। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া।

এই অভিযোগের বিষয়ে জেএসএসের প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের নিপীড়নের ঘটনা আড়াল করতেই এমন মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। জেএসএস এই সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এর আগে নিরাপত্তার খাতিরে বুধবার সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

অবরোধের প্রভাবে সাজেকের স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, পর্যটকদের আগাম বুকিং বাতিল করতে হচ্ছে। সড়ক অবরোধ শুধু পর্যটন খাতেই নয়, খাদ্য সরবরাহ ও স্থানীয় কৃষি পণ্য পরিবহনেও স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ