সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আরামকো তেল শোধনাগারে পৃথক হামলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হন। এছাড়া এসব হামলায় আরো দশজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জিএসিএ-র তথ্যমতে, বিমানবন্দরে আহত আটজনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি, দুজন ভারতীয়, দুজন ইয়েমেনি, একজন নেপালি এবং একজন সৌদি নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী ও সৌদি সমর্থিত সরকারের মধ্যকার সংঘাত তীব্র হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সৌদির নানা অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবর মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে হুথি হামলায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে যে, ২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টায় দাম্মাম কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হন। বর্তমানে তারা দাম্মামের সৌদি-জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আহত দুই নাগরিক হলেন কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সজল চন্দ্র দাস (পিতা: অনুকূল চন্দ্র দাস) এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার দিনমনিরহাটের মোহাম্মদ আবদুর রহিম (পিতা: সিরাজুল হক)।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, হামলার সময় অতিরিক্ত গরম ও ধোঁয়ার কারণে ওই দুই বাংলাদেশি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, তবে তাদের শরীরে গুরুতর কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আহতরা সুস্থ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন। শুক্রবার তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।