মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি খুলনা থেকে উত্তরের জেলা পঞ্চগড় পর্যন্ত একটি বৃহৎ শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চায় বর্তমান সরকার। বাগেরহাট থেকে খুলনায় আসার পথে বৃহস্পতিবার রূপসার তিলক এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার পর্যায়ক্রমে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। খুলনা অঞ্চলের শিল্পায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খুলনা অঞ্চল একসময় কারখানার অঞ্চল ছিল।
মোংলা বন্দরের বর্তমান সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে চায় সরকার, যাতে বন্দরটি বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দরের ব্যবসার প্রসার ঘটলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি জানান, এই পুরো বেল্টকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, তার সবই ধীরে ধীরে নিশ্চিত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো খুলনা থেকে শুরু করে বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা হয়ে উত্তরাঞ্চলের শেষ সীমানা পর্যন্ত কলকারখানা স্থাপন করা, যাতে স্থানীয় মানুষ কাজের সুযোগ পায়। যার ফলে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়।’।
তারেক রহমান বলেন, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি দুইবার এই অঞ্চলে এসেছেন এলাকার মানুষের দাবির কথা শুনতে। এ সময় তিনি বিগত এক যুগের বেশি সময়ের উন্নয়নের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এলাকার মানুষ এয়ারপোর্ট, ফোর লেন রাস্তা, রেলপথ এবং বন্দরের উন্নয়ন চাইছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, গত এক দশকে উন্নয়নের নামে কোনো কাজই হয়নি, বরং মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, গুম-খুন, অর্থ পাচার, শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যাংক ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল দেশ ও মানুষের কাছ থেকে শুধু নেওয়া, কোনো কিছু দেওয়া নয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, কারা যেন বলত, এ অঞ্চলে সবকিছু তারা করেছে। যেন বন্দর আরও বড় হয় এবং এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। আমার প্রশ্ন, এই কাজগুলো যদি বাকি থেকে থাকে, এই কাজগুলো যদি না হয়ে থাকে, তাহলে এত বছর কী কাজ হয়েছে এলাকার উন্নয়নে?’।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে দুটি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে দেওয়া সব ওয়াদা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। সংকটময় এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও জনকল্যাণমূলক কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পূর্বে আমরা দেশের মানুষকে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, পৃথিবীতে এখন দুটি যুদ্ধ বিরাজ করছে, এই যুদ্ধের মধ্যেও আমরা সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ। এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।
পরে প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজনের দ্বিতীয় মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।