রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু চিকিৎসা নয়, দরকার সমন্বিত সচেতনতা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ট্রাম্প-এরদোগান ফোনালাপ: ইরান উত্তেজনা ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের গুঞ্জন: বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্পবাদ কি মার্কিন রাজনীতির বিভাজন ঘুচিয়ে পারবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও বাংলাদেশের বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিচার বিভাগের বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি: আইনমন্ত্রী অর্থনীতি গণতান্ত্রিক না হলে রাজনীতির গণতন্ত্র কার্যকর হয় না: অর্থমন্ত্রী বিগত সরকারের জিডিপি হিসাবে গরমিল, জানালেন অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের ফল বানচালের চেষ্টায় আদালতের দ্বারস্থ নেতানিয়াহুর দল ভৈরব নদের ভাঙনে বিলীন লোহাপট্টির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই

দেশকে যেন কেউ তাঁবেদার না বানাতে পারে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিবেদকের নাম

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। এ সময় তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হরণ করে বাংলাদেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে। তিনি এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোরারোপ করেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনা প্রমাণ করে যে, এ দেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যদি ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। তবে সেই গৌরবের পতাকা সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করে যে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতার বিপ্লব সেই চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দিয়েছিল।

যারা একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, তাদের পরাজয় ঘটেছিল এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতেও ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি; বিশেষ করে পিলখানায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট ও ফ্যাসিবাদী শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল।’।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পথে একটি বড় জয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন, কারণ এই চেতনা থেকে বিচ্যুত হলেই দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে। তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশি পরিচয়ই আমাদের শক্তির মূল উৎস। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়।’। তারেক রহমান বলেন, ‘দল, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এ দেশের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তিনি যেভাবে রণাঙ্গনে লড়াই করেছেন, তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও দেশের প্রয়োজনে অবিচল ছিলেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, বরং সঠিক ইতিহাস থেকে প্রেরণা নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে হবে। আজকের আয়োজনে হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে নতুন প্রজন্ম এখন সচেতন। আজকের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।’।

প্রধানমন্ত্রী অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সব সম্ভাবনা বিকাশে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান। দেশপ্রেমিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি স্লোগান তুলেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীকে সফল আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।’। অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সব সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটস এবং সর্বোপরি দেশের জনগণকে এ আয়োজনের।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এই বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান এবং সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ