যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। একদিকে তিনি ইরানকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পথও পুরোপুরি বন্ধ করেননি। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান তাকে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে, যেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বা আলোচনার টেবিলে বসা—কোনটি বেছে নেবেন তা নিয়ে চরম সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন তিনি। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে এক চরম দোলাচল দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের যেকোনো আকস্মিক কঠোর সিদ্ধান্তের আশঙ্কায় ইরানি কর্তৃপক্ষ জনসচেতনতামূলক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বুশেহর ও পিকঅ্যাক্স পর্বতের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী বাসিন্দাদের মাঝে তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য প্রদানের জন্য মার্কিন সরকার দুই কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় ইরান তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মাঝে তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ শুরু করেছে।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজ দেশের জনগণের তীব্র অসন্তোষের মুখে থাকা ট্রাম্প ইরানের কোনো শর্তই মেনে নিতে প্রস্তুত নন; বিশেষ করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিগুলো তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের ভৌগোলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা ট্রাম্পকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে নিরুৎসাহিত করছে। শেষ পর্যন্ত সীমিত মাত্রার অভিযান চালালেও তার ফলাফল কী হতে পারে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে বড় ধরনের সংশয় বিদ্যমান। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামানো বা আরও জোরদার করা নিয়ে ট্রাম্প এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও কাতারের মধ্যস্থতায় উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তেহরান সম্প্রতি একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব মার্কিন প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী যেকোনো সময় পূর্ণমাত্রার আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে, অন্যদিকে ইরানও দৃঢ়ভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে পুনরায় হামলা চালানো হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এর ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।