রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু চিকিৎসা নয়, দরকার সমন্বিত সচেতনতা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ট্রাম্প-এরদোগান ফোনালাপ: ইরান উত্তেজনা ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের গুঞ্জন: বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্পবাদ কি মার্কিন রাজনীতির বিভাজন ঘুচিয়ে পারবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও বাংলাদেশের বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিচার বিভাগের বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি: আইনমন্ত্রী অর্থনীতি গণতান্ত্রিক না হলে রাজনীতির গণতন্ত্র কার্যকর হয় না: অর্থমন্ত্রী বিগত সরকারের জিডিপি হিসাবে গরমিল, জানালেন অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের ফল বানচালের চেষ্টায় আদালতের দ্বারস্থ নেতানিয়াহুর দল ভৈরব নদের ভাঙনে বিলীন লোহাপট্টির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই

ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট, ছিটকে পড়লেন নেতানিয়াহু

প্রতিবেদকের নাম

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে শনিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে আইজেনকোটের কাছে সরকার গঠনের এই ম্যান্ডেট হস্তান্তর করা হবে।

গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনো দল বা জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত নেন। সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট ২৮ দিন সময় পাবেন, প্রয়োজনে যা আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব। নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য তার অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইজেনকোটের পক্ষে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোসহ মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতা রয়েছেন, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন।

নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, আইজেনকোটের চার দলের জোট ৪৮টি এবং নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। এছাড়া আরব দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকারী আইজেনকোট আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠন করতে আগ্রহী নন। তবে তিনি অতি-গোঁড়া ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাসের সমর্থন পেলে জোটের আসনসংখ্যা ৬১-তে উন্নীত করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আইজেনকোট আট মাস নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক ছিলেন।

আরব জোট জয়েন্ট লিস্টের নেতা আহমদ তিবির মতে, প্রেসিডেন্ট হারজগের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত। তিনি জানান, আরব দলগুলোর আদর্শগত পছন্দ না হলেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিবি মনে করেন, বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের দিকেই ঝুঁকতে পারেন আইজেনকোট।

প্রেসিডেন্টের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছিলেন, আরব দলগুলোর সমর্থনে বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে দেশ ভেঙে পড়বে। তিনি এমন সরকার ব্যবস্থাকে ইসলামপন্থীদের ওপর নির্ভরশীল বলে সমালোচনা করেন। জবাবে আহমদ তিবি উল্টো নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও পশ্চিম তীরে ইহুদি চরমপন্থীদের সহিংসতার পেছনে নেতানিয়াহুর সমর্থন রয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে আইজেনকোট ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো প্রার্থীকে দায়িত্ব দিতে পারেন। যদি দ্বিতীয় দফাতেও কেউ ব্যর্থ হয়, তবে পার্লামেন্ট তৃতীয় কাউকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ পাবে। এসব প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে কেউ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে দেশটিতে আবারও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই নির্বাচন পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ