খুলনার ঐতিহাসিক বড় বাজারের লোহাপট্টি এলাকাটি এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। ভৈরব নদের ভাঙন ও গতিপথ পরিবর্তনের ফলে বাজারের আগের রূপ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। লোহাপট্টির প্রবীণ কর্মচারী ভবেশ চন্দ্র শিকদার জানান, প্রায় ৫০ বছর আগে যখন তিনি কাজের সন্ধানে এখানে এসেছিলেন, তখন নদের অবস্থান বর্তমানের তুলনায় অনেক দূরে ছিল। দীর্ঘ সময়ে নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বাজারের একেবারে কাছে চলে এসেছে। লোহাপট্টির মফজেল অ্যান্ড ব্রাদার্সে কাজ করা সত্তরোর্ধ্ব প্রবীণ কর্মচারী ভবেশ চন্দ্র শিকদার জানান, ৫০ বছরের বেশি আগে তিনি বড় বাজারে কাজের সন্ধানে এসেছিলেন।
বর্তমানে লোহাপট্টির রাস্তার একদিকের দোকানগুলো আক্ষরিক অর্থেই পানিতে ভাসমান। এসব দোকানের নিচে কোনো মাটি অবশিষ্ট নেই। নদের অব্যাহত ভাঙনে টিকে থাকতে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা বাঁশ ও কাঠের খুঁটি বা পিলারের ওপর অস্থায়ী মাচা তৈরি করে দোকান পরিচালনা করছেন। অর্ধশতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বাজার এলাকাটি সংরক্ষণের বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মশিহুজ্জামান খান বলেন, কয়েক বছর আগে জার্মান ব্যাংক কেএফডব্লিউ-এর অর্থায়নে ক্লাইমেট ফান্ডের আওতায় ভৈরব নদের তীরে কংক্রিটের বাঁধ, ওয়াকওয়ে এবং ঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতো। ব্যবসায়ীদের অনিচ্ছা এবং সিটি করপোরেশনের পর্যাপ্ত সক্ষমতার অভাব থাকায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
লোহাপট্টি ও বড় বাজার সংরক্ষণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের চিফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার জানান, বাজারের জমির মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে মতভেদ ও আইনি জটিলতা রয়েছে। এই বিরোধের কারণেই বড় বাজার রক্ষায় কোনো স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে লোহাপট্টির ব্যবসায়ীদের একমাত্র দাবি, সরকার যেন অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের ব্যবসায়িক এলাকাটিকে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করে।