শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন

টেনেসি কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থতার নজির

প্রতিবেদকের নাম

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘ ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনো নারী কয়েদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি চরম অব্যবস্থাপনার নজির তৈরি করেছে। বুধবার রাতে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের শরীরে প্রাণঘাতী বিষাক্ত ইনজেকশনের দুটি ডোজ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত নিয়মে এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশের পরও তিনি আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে যান। এই অমানবিক ও ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার পর এখন তিনি রিভারবেন্ড কারাগার থেকে অন্য একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে হত্যার দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে কারাগারে ছিলেন।

সশরীরে উপস্থিত সাংবাদিকদের মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি ছিল এক চরম দুঃস্বপ্ন। কারারক্ষীরা পাইকের শরীরে আইভি লাইন স্থাপন করতে প্রায় এক ঘণ্টা ব্যয় করেন এবং তাঁর বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সুঁই ফোটান। রাসায়নিক ইনজেকশন শরীরে প্রবেশ করানোর পর তীব্র যন্ত্রণায় পাইক চিৎকার করে বলেন যে, তাঁর হাত ফেটে যাচ্ছে। এরপর তিনি গোঙাতে থাকেন এবং একপর্যায়ে জোরে নাক ডাকতে শুরু করেন, যা উপস্থিতদের হতবাক করে দেয়। একজন সাংবাদিক জানান, তিনি এমন ব্যর্থ ও ভয়াবহ প্রক্রিয়া আগে কখনো দেখেননি, যেখানে পর্দার আড়ালে বারবার টানাহেঁচড়া করতে দেখা গেছে। কক্ষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা এমন অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। ঘটনার একপর্যায়ে কার্যকরকক্ষের পর্দা বারবার টানা ও ফেলা হচ্ছিল, যা ভেতরের চরম অব্যবস্থাপনাকেই স্পষ্ট করে তোলে।

ঘটনার পর মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা দেশটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতির নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। আইনজীবীদের দাবি, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে অদক্ষ কর্মীবাহিনীর মাধ্যমে এই কাজ করানোয় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পাইকের আইনি দল জানায়, তিনি মৃত্যুর ভয় পাচ্ছেন না, বরং তাঁর মূল উদ্বেগ ছিল এমন দীর্ঘস্থায়ী ও চরম যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু নিয়ে। বাস্তবতা ঠিক তেমনই হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী র‌্যান্ডি স্পাইভি। এই আইনজীবী গভর্নর বিল লি বরাবর সাজা কমানোর আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তীব্র সমালোচনার মুখে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর বিল লি চলতি বছরের অবশিষ্ট সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটিতে ঠিক কী কী ভুল হয়েছিল তা খতিয়ে দেখতে একটি স্বতন্ত্র তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালেও একই অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী রাসায়নিকের মান নিশ্চিত করতে না পারায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতীতে বৈদ্যুতিক চেয়ারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্দীদের বেঁচে ফেরার ইতিহাস থাকলেও, বর্তমান যুগে মারণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও একজন কয়েদির বেঁচে থাকা দেশটির বিচার ও কারা ব্যবস্থার বড় ধরনের অদক্ষতাকেই সামনে এনেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ