স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলন, একাধিক মামলা, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিত মুখ মো. সোহাগ ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, আসন্ন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি অন্যতম আলোচিত নাম।

ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় সোহাগ ভূঁইয়া দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব কারণে যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।
কুমিল্লার সন্তান সোহাগ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক উত্থান মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সর্বশেষ সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঘোষিত ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে সভাপতি হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হলে রাজধানীর ছাত্ররাজনীতিতে তার অবস্থান আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
দলীয় সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে ৭৬টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়। বিভিন্ন সময় তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন বলেও জানা যায়। রাজধানীতে বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি ‘মাঠের কর্মী’ হিসেবে পরিচিত।
সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন সময়ে সোহাগ ভূঁইয়া ও তার পরিবারকে নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ তাকে ‘ত্যাগী ও নির্যাতিত ছাত্রনেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, সোহাগ ভূঁইয়া একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন, বিশেষ করে ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শাহবাগ, খিলগাঁও, রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি আলোচনায় আসেন। ওই সময় তিনি গুলিবিদ্ধও হন বলে দাবি করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির বর্তমান রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং নির্যাতনের শিকার নেতাদের মূল্যায়ন বাড়ছে। বিশেষ করে ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতাদের যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। এ কারণেই সোহাগ ভূঁইয়ার নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ ভূঁইয়া বলেন, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, তা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। আমার কাছে দলীয় সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই আমি মেনে নেব।”
তবে যুবদলের সম্ভাব্য কমিটি নিয়ে একাধিক সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবদল নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কারা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হবেন, তা নির্ধারণ করবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত।