সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার জনপ্রতি ঋণের বোঝা ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা: জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ফেনীতে পুলিশ পরিচয়ে মোবাইল তল্লাশি: তিন যুবক কারাগারে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে ঢাকাবাসীর মাথাপিছু আয় ৫,১৬৩ ডলার, ডিসিসিআইয়ের নতুন সূচক প্রকাশ ১১১ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ৭৩তম মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জিতলেন জোহেইরি মোলা মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে সংস্কার ও অপপ্রচার রোধের আহ্বান ওলামা পরিষদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নাশকতার আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে প্রসিকিউশন লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে দাদা ও দুই নাতি-নাতনির মর্মান্তিক মৃত্যু চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অপরাধ পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

যে কারণে বিশ্ববাজারে কমছে স্বর্ণের দাম

নিউজ ডেস্ক ঃ

সাধারণত বৈশ্বিক সংকট বা যুদ্ধের সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে এবং দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের সময় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ চললেও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে।

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রতি ট্রয় আউন্স (৩১.১ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ছিল পাঁচ হাজার ৩০৩ ডলার। শুক্রবার (১২ জুন) তা নেমে এসেছে চার হাজার ২৩৫ ডলারে। খবর আল জাজিরার।

বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি। বিশেষ করে ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার তিন বছরের সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দেশটির শ্রমবাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, স্বর্ণ এমন একটি সম্পদ যা নিজে থেকে কোনো সুদ বা আয় দেয় না। বিনিয়োগকারীরা লাভবান হন কেবল তখনই, যখন স্বর্ণের দাম বাড়ে। অন্যদিকে সুদের হার বাড়লে ডলারভিত্তিক বিনিয়োগ বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণ থেকে সরে গিয়ে ডলার বা সুদভিত্তিক সম্পদে ঝুঁকছেন।

অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের বিশ্লেষক জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেন, সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন ডলারভিত্তিক সম্পদে বেশি আগ্রহ দেখান।

এছাড়া ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সাধারণত ডলারের মূল্য বাড়লে স্বর্ণের দাম কমে এবং ডলার দুর্বল হলে স্বর্ণের দাম বাড়ে।

নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী কলিন প্লুম বলেন, বর্তমানে ডলার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, তাই স্বর্ণ চাপের মুখে পড়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি বাজারে চাপ কমতে পারে এবং মূল্যস্ফীতিও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। এতে ভবিষ্যতে স্বর্ণের বাজারে আবার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।

তবে সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে আগামী কয়েক মাস স্বর্ণের বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ