শাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জামিন পেয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন তিনি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়ার পরপরই আদালত প্রাঙ্গণে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার বাদী একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও নিজের স্বামীর ক্ষমতা ব্যবহার করে তাকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে এই মামলাটি করেছেন। তিশা বলেন, ‘যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন, তিনি একজন নারী। তিনি তার স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন এবং আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দিয়েছেন। আমার কাছে এ সংক্রান্ত অনেক তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, যা আমি উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করব।’
মামলার অভিযোগ সম্পর্কে তিশা বলেন, ‘মাত্র ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ির জন্য আমাকে আদালতে আসতে হয়েছে। আমার দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি আশা করি, আদালত আমাকে ন্যায়বিচার প্রদান করবেন।’ তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী নিজেও একজন নারী এবং তারও সংসার ও সন্তান রয়েছে। একজন নারীকে এভাবে হয়রানি করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যেন অন্য কাউকে এমন হীন উদ্দেশ্যে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, শাড়িটির প্রচার চালানোর পাশাপাশি মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে পরবর্তীতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রচার না চালানো এবং শাড়ির মূল্য পরিশোধ না করায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন প্রদান করেন।
তার বিরুদ্ধে এই আইনি জটিলতা তৈরি করাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিশা আরও বলেন, ‘একটি ২৭ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ির জন্য বলা হচ্ছে, আমি নাকি আত্মসাত করেছি!
তিশা অভিযোগকারীর প্রতি ইঙ্গিত করে আরও বলেন, ‘তারও একটা ছোট মেয়ে আছে, তারও সংসার ও একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে।
আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পাব বলেই বিশ্বাস করি।’
আমি যেন সঠিক ও ন্যায়বিচার পাই, এটাই আমার একমাত্র কামনা।’