সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার রাতে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে র্যাব-১০ চারজনকে এবং আমিনবাজার এলাকা থেকে র্যাব-৪ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, এজাহারভুক্ত ১৫ জন আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত আটজনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
র্যাবের ভাষ্যমতে, অটোরিকশা রাখা নিয়ে গ্যারেজের মালিকের সঙ্গে বিরোধের জেরে এই হামলার সূত্রপাত ঘটে। শনিবার রাতে গ্যারেজের মালিককে মারধরের সময় আলতাব হোসেন প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আলতাব হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল হামলাকারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নিজের পরিচয় দেওয়ার পর হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আলতাব হোসেনকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ছেলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে মারধর করে। এসময় কারখানার আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরান। আমিনবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিমকে। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আপন ও জিহাদ ওই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, হামলাকারীদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার বিবরণ দিয়ে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক জানান, আলাউদ্দিন সরাসরি আলতাব হোসেনের ওপর আঘাত করেন এবং জিহাদ চাকু দিয়ে তাঁকে জখম করেন। এছাড়া আপন এসএস পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন এবং ইমরানও এই হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে পুলিশ সদস্য আলতাব হোসেন হামলাকারীদের ‘টার্গেট’ ছিলেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রাইভেট কারে থাকা পাঁচজন গ্যারেজমালিকের ওপর হামলা করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য তুলে ধরে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক বলেন, চারজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হই এবং চারজনকেই বিভিন্নভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একজন বৃদ্ধ মানুষকে যখন আঘাত করা হচ্ছিল, তখন আলতাব হোসেন তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি র্যাব-৪ আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ নিয়ে এজাহারভুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।