বল দখল, আক্রমণে নরওয়ের কাছে পেরেই উঠতে পারতেছিল না ব্রাজিল। নাটকীয় প্রথমার্ধের পর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে গোলের দেখা মিলছিল না কারোই। তবে আর্লিং হালান্ড দেখালেন তার ঝলক। শেষ বিশ মিনিটে জোড়া গোল করলেন, নরওয়েকে এগিয়ে নিলেন। পরে অবশ্য পেনাল্টি থেক গোল করে কেবল ব্যবধানই কমান নেইমার জুনিয়র। ২-১ গোলে জিতে ব্রাজিলকে বিদায় করে বিশ্বকাপে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে নরওয়ে। শেষ আটে তারা মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে।
৩৬ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হল ব্রাজিল। সবশেষ ১৯৯০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বিপক্ষে কোয়ার্টারের আগে বিদায় নিয়েছিল তারা। ২০০২ সালে পঞ্চম শিরোপা জেতার পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপ খালি হাতেই শেষ করল তারা।
নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে জালের দেখা পায় নরওয়ে। প্যাট্রিক বার্গের দারুণ শট জড়ায় ব্রাজিল জালে। তবে আক্রমণের শুরুতে বল রিসিভ করার সময় অফসাইডে ছিলেন আলেকজান্ডার সরলোথ। তাতে বাতিল হয়ে যায় নরওয়ের গোল।
ম্যাচের দশম মিনিটে ডি বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ম্যাথিয়াস কুনহাকে ফাউল করে বসেন ক্রিস্টোফার আয়ে। শুরুতে বাঁশি না বাজালেও, ভিএআর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। তবে পেনাল্টিতে সুযোগ হাতছাড়া করে লাতিন দেশটি। ১৪তম মিনিটে ব্রুনো গুইমারায়েসের শট নিয়েছিলন, কিছুটা ফাঁকি দিতে চেয়েছিলেন নরওয়ে গোলরক্ষককে। তবে বাম দিকে ঝাঁপিয়ে তার শট ঠেকিয়ে দেন ওরান নাইল্যান্ড।
৪০ মিনিটে পা দিয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ে গোলরক্ষক। তাতে আরও একটি সুযোগ হারায় ব্রাজিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নরওয়ের আক্রমণ ঠেকিয়ে ব্রাজিলকে রক্ষা করেন আলিসন।
বক্সের বাইরে গ্যাব্রিয়েলকে পরাস্ত করে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন হালান্ড। বের হয়ে যাওয়া বলটি বক্সের ভেতরে পান মার্টিন অডেগার্ড। জোরালো শট নিলেও দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দেন আলিসন। তাতে বেঁচে যায় ব্রাজিল। শেষ অবধি গোলশূন্য সমতাতে শেষ হয়েছে প্রথমার্ধের লড়াই।
বিরতির পরও বল দখলে আধিপত্য দেখায় নরওয়ে। ৫৮ মিনিটে এন্ড্রিককে নামান আনচেলত্তি। মাঠে নেমেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। ৬০ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের অসাধারণ পাসে বল পেয়ে টেনে নিয়ে ডিবক্সে নরওয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। ৬২ মিনিটে রায়ান দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে দেন নাইল্যান্ড।
৬৭ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির পরিবর্তে নেইমার জুনিয়রকে নামালেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নেইমার নামার পর আক্রমণের ধার কিছুটা বাড়ে ব্রাজিলের। তবে বড় সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। হালান্ডকে উদ্দেশ্য করে বাম পাশ থেকে চমৎকার ক্রস দেন আন্দ্রেয়াস শেল্ডারাপ ব্রাজিলের তিন ডিফেন্ডার মাঝে লাফিয়ে উঠে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান আর্লিং হালান্ড।
৮৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নরওয়ে তারকা। শেল্ডারাপের পাসে ডি বক্সের একটু বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে যান হলান্ড। বাম পায়ের জোরাল শটে বল জালে পাঠান। ২-০তে এগিয়ে যায় নরওয়ে। চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের সপ্তম গোল এটি। তাতে ভাগ বসালেন লিওনেল মেসি ও কাইলিয়ান এমবাপের সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায়।
যোগকরা সময়ে ডি বক্সে ফাউলের শিকার হন কাসেমিরো। ম্যাচের একদম শেষ সময়ে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করলেন না নেইমার। ১ গোল শোধ করেন। শেষ অবধি ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।