রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন

৯ মাসে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ৪১০ অপতথ্য: প্রেস সচিব

প্রতিবেদকের নাম

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর—এই নয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে ৪১০টি অপতথ্য বা গুজব ছড়ানো হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংগঠনের নতুন সদস্যবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এ তথ্য জানান। তিনি একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের বরাতে উল্লেখ করেন, একই সময়ে বিএনপিকে নিয়ে ১১৮টি এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ৪৫১টি অপতথ্য প্রচারের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংগঠনটির নতুন সদস্যদের বরণ অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার মধ্যদিয়ে অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছানোই একটি সংগঠনের সৌন্দর্য।

প্রেস সচিব বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গুজব ও অপতথ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দায়িত্বহীনতাও বেড়েছে। তবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এখনও জনমানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে টিকে আছে। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ এখনো অনলাইনে কোনো তথ্য দেখলে টেলিভিশন বা মূলধারার সংবাদপত্রের সাথে মিলিয়ে তার সত্যতা যাচাই করে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে না জানা অনেক মানুষও অপতথ্যের শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য যাচাইবিষয়ক অনুষ্ঠান থাকা জরুরি। দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিনিটের এমন অনুষ্ঠান মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, কখনো কখনো বড় গণমাধ্যমগুলোও যাচাই-বাছাই না করে ভুয়া ছবি বা তথ্য প্রচার করে ফেলে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল ও গণমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য যাচাইবিষয়ক অনুষ্ঠান চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি অনুষ্ঠানও মানুষকে সঠিক তথ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

সাংবাদিকদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়ে ছালেহ শিবলী বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করা একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই সত্য প্রকাশে অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়। তিনি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, আইনের সঠিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেন সাংবাদিকতার স্বাধীনতা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। এছাড়া সাইবার অপরাধের শিকার অসহায় মানুষের জন্য সরকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। সময়ের প্রয়োজনে আইনের সংশোধন, সংযোজন বা পরিবর্তনের সুযোগও থাকতে হবে। তারা নিজেরা এর প্রতিবাদ জানাতে বা প্রতিকার চাইতে সক্ষম নাও হতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, এমন এক সমাজ ও রাষ্ট্র আমরা চাই যেখানে ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না। ডিআরইউর নতুন সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সংগঠনের ঐক্য ও ঐতিহ্য ধরে রাখার তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মাইনুল হাসান সোহেল। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান এবং সাবেক প্রচার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম বক্তব্য দেন। এসময় ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, মো. রাশিম, ওমর ফারুক রুবেল, মো. মনোয়ার হোসেন, আমিনুল হক ভূঁইয়া, রফিক মৃধা, মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী এবং মো. আব্দুল আলীম অংশগ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ