গত বুধবার সকাল থেকেই মাগুরায় শুরু হয়েছে মুষলধারে আষাঢ়ের প্রবল বর্ষণ। আষাঢ়ের এ প্রবল বর্ষণে মাগুরা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, পুকুর, ডোবা, ড্রেন সহ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রবল বর্ষণে শহরের রাস্তাঘাটসহ নিম্ন অঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।
বিশেষ করে মাগুরা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের হাসপাতাল পাড়া, কাউন্সিলপাড়া, কলেজ পাড়ার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে, সকাল প্রবল শুরু হলে বিপাকে পড়ে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক স্কুলের অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা। প্রবল বর্ষণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিদ্যালয় যেতে দেখা যায়।
মাধ্যমিক স্কুলের ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানান,বুধবার থেকে স্কুলের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রবল ধর্ষণের ফলে তারা বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। কিন্তু স্কুলে পরীক্ষা থাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে যানবাহনের আশায়। বৃষ্টিতে রাস্তায় যানবাহন না থাকায় হেঁটেই রওনা হতে হচ্ছে।
মাগুরা হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা ডাক্তার তাসুকুজ্জামান বলেন, বুধবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে প্রবল বর্ষণ। ভোর থেকে মিলছে না সূর্যের দেখা। সকাল থেকেই বারোটা পর্যন্ত একভাবে চলছে প্রবল বর্ষণ। প্রবল বর্ষণের ফলে পৌর এলাকার পুকুর, ডোবা,ড্রেন তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাটে জমেছে বৃষ্টির পানি।
মাগুরা পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিকল্পিত না হওয়ায় বর্তমান ড্রেন দিয়ে ভালোভাবে পানি নিষ্কাশন হয় না। ড্রেন দিয়ে পানি ভালোভাবে নিষ্কাশন না হওয়ার ফলে রাস্তাঘাটে পানি জমে গেছে ফলে বিপাকে পড়ছে পথচারীরা। আবার রাস্তাঘাটে বিভিন্ন স্থানে গর্ত থাকার ফলে অনেক পানি জমে ডুবে গেছে। ফলে যানবাহন নিয়ে কেউ রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনা পড়ছে প্রতিনিয়ত।
শহরের কাউন্সিল পাড়ার অধিবাসীরা বলেন, বুধবার সকাল থেকেই প্রবল বর্ষণের ফলে আলামিন স্কুলের সামনে থেকে সদর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কে পানিতে ডুবে গেছে সড়ক। ফলে এই সড়ক দিয়ে পথচারী শিক্ষার্থীরা যেতে পারছে না । ডুবে যাওয়া সড়কে অনেক যানবাহন বৃষ্টির পানিতে ঝুঁকি নিয়ে পথ চলাচল করছেন। এই সড়কের পাশে শুভেচ্ছা স্কুল অবস্থিত। এই স্কুলে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সকাল থেকেই স্কুলে পরীক্ষা থাকায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তার পানি ভেঙ্গে স্কুলে যেতে দেখা গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এই সড়কের পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে বিপাকে পড়েছে রাস্তায় চলাচলকারী পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। জেলা পশাসকের কার্যালয পানির উপর ভাসছে। অফিসে ঠুকতে হাটু পানি।
শিক্ষক মারুফ হোসেন বলেন,সকাল থেকে প্রবল বর্ষণ শুরু হলে মোটরসাইকেল নিয়েই রাস্তার বের হই।তারপর স্কুলের সামনে এসে দেখি রাস্তায় অনেক পানি। পানি উপেক্ষা করেই অনেক পথচারী ও শিক্ষার্থীরা চলাচল করছেন।
এদিকে, প্রবল বর্ষণ শুরু হলে বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ। দিনভর বর্ষণের ফলে কোন কাজ না থাকায় অনেক শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করেছে।