হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জলপথটি অতিক্রম করার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় একে ‘জলদস্যুতা’ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতি বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ইরানের এই প্রচেষ্টা সরাসরি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
একই সপ্তাহের মধ্যে আবারও প্রণালিতে ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে সরকারি মালিকানাধীন একটি ট্যাংকারে একই ধরনের হামলার খবর জানানো হয়েছিল। আল জাজিরা জানিয়েছে, গত শনিবারের সেই হামলার জন্যও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) দায়ী করেছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে যে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্যকর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং এই পথে চলাচলের জন্য অর্থ আদায় করতে চায়। এর আগে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছিল, তেহরানের শত্রুদের সঙ্গে যুক্ত অথবা ইরানের নির্দেশনা অমান্যকারী কোনো জাহাজ যদি এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রণালিটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এডিএনওসি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের মোট ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং তারা ইরানের এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করেছে।
আবুধাবি সরকার এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। তারা মনে করে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।