ডারউইনে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্টের দ্বিতীয় দিনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অজি পেসার মিচেল স্টার্কের সঙ্গে মেজাজ হারিয়ে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। মূলত অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দীর্ঘ সময় উইকেটহীন রাখার হতাশা থেকেই স্টার্কের এমন প্রতিক্রিয়া বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১০৩তম ওভারে (ম্যাচের ২১তম ওভার)। স্টার্কের করা পঞ্চম বলে পয়েন্টে শট খেলে রান নিতে দৌড় শুরু করেন মিরাজ। দৌড়ানোর সময় পিচের সুরক্ষিত এলাকা বা ‘প্রোটেক্টেড এরিয়া’ দিয়ে যাওয়ার কারণে আম্পায়ার ধর্মসেনা তাকে সতর্ক করেন। মিরাজ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাখ্যা দেন যে, বলের দিকে মনোযোগ থাকায় তিনি সামনে কী ঘটছে তা খেয়াল করতে পারেননি। তবে স্টার্ক এ সময় মিরাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এটি তার ফলো-থ্রুর জায়গা এবং মিরাজকে উইকেট ছেড়ে দিতে হবে। এক পর্যায়ে স্টার্ককে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি কিন্তু আর বাংলাদেশে নেই এখন, বুঝেছ?’
চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যে সাবেক অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিং অবশ্য মিরাজের পক্ষেই কথা বলেছেন। পন্টিংয়ের মতে, এটি ইচ্ছাকৃত কোনো ঘটনা ছিল না। বলের দিকে তাকিয়ে থাকার পর স্টার্ককে সামনে দেখে মিরাজ পিচের মাঝ দিয়ে যাওয়াই সহজ পথ মনে করেছিলেন। ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার নিকলসনও মনে করেন, মাঠে দীর্ঘ সময় উইকেট না পাওয়ার হতাশা থেকেই স্টার্ক এমন আচরণ করেছেন।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এখন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রান তুলেছে সফরকারীরা, যা অস্ট্রেলিয়াকে ১৫৩ রানের লিড এনে দিয়েছে। হাতে রয়েছে আরও ৪ উইকেট। মিরাজ ৩২ রানে এবং প্রথম দিনে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। নতুন বলে ৩ উইকেট নেওয়ার পরও দিনের শেষভাগে মিরাজ ও হাসানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে বেশ হতাশ করেছে।
জবাবে মিরাজ বলেন, বল দেখার কারণে তিনি সামনে কিছু দেখতে পাননি।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ রয়েছে দারুণ অবস্থানে—৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে প্রথম ইনিংসে ১৫৩ রানের লিড নিয়েছে সফরকারীরা, হাতে আছে আরও ৪ উইকেট।
মিরাজ অপরাজিত ৩২ রানে, আর প্রথম দিনে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত।
কে ভেবেছিল, মিচেল স্টার্ক-প্যাট কামিন্স-জশ হ্যাজলউডদের হতাশ করে ডারউইনের দ্বিতীয় দিনটা রাঙাবেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা।
নিয়ম অনুযায়ী বোলারদের মতো ব্যাটসম্যানদেরও দৌড়ানোর সময় পিচের মাঝের সুরক্ষিত অংশ (প্রোটেক্টেড এরিয়া) এড়িয়ে চলতে হয়।
এই ঘটনার জেরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্টার্কের হতাশার কারণটা অবশ্য স্পষ্ট।