শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা: জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি পুলিশের ৬৭ জন পরিদর্শক পদোন্নতি পেয়ে এএসপি হলেন সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টসে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী: খুলনা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চাই ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই উচিত জবাব দেবে জনগণ লাইপজিগকে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল ম্যানচেস্টার সিটি দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের প্রাণহানি সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজে নতুন রেডিও সংকেত পেলেন বিজ্ঞানীরা

বসুন্ধরায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সাবেক মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন খারিজ

প্রতিবেদকের নাম
রাজধানীর বসুন্ধরায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক মেজর সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলায় সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর পুলিশের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। সাদিকুলের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী আল-আমিন দাবি করেছেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে বর্তমানে আর কোনো মামলা বিচারাধীন নেই। তাই কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা থাকার কথা নয় এবং তিনি দ্রুত মুক্তি পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাতে ভাটারা থানার বিটুমিন গেটের সামনে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তির প্রাইভেট কারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আওয়ামী লীগের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ৭ আগস্ট সাদিকুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। গত সোমবার আসামির উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে সাদিকুলের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল কারাগারে ছিলেন, তাহলে তিনি কীভাবে বাইরে গাড়ি পোড়ানোর নির্দেশ দিতে পারেন? এ প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ভাটারা থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছিলেন।

রোববার আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের লিখিত ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়, সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন সাদিকুল ২০২৫ সালের ৩ থেকে ৮ জুলাই বসুন্ধরার কেবি কনভেনশন হলে গোপন সভা করেছিলেন। সেখানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। পুলিশ আরও অভিযোগ করে, সাদিকুল ‘প্রধান প্রশিক্ষক’ হিসেবে রূপগঞ্জ, কাঁটাবন, মিরপুর ডিওএইচএস, উত্তরা ও প্রিয়াংকা সিটিতে স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনসহ গোপন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছিলেন। পুলিশের দাবি, এসব কর্মশালা থেকেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করা হয়।

তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যা পর্যালোচনার পর আদালত সাদিকুল হককে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি নামঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালত সাদিকুলকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ভাটারা থানার অপর একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

গাড়ি পোড়ানো এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জ্যোতির্ময় মন্ডল বাদী হয়ে মামলা করেন।

পুলিশের লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়, সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশের কেবি কনভেনশন হলে গোপন সভা করেন সাদিকুল।

এ ঘটনায় গত বছরের ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়, যাতে তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় সাদিকুলকে আসামি করা হয়।

চাঁদ আলীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চান।

দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং দল দুটির কার্যক্রম গতিশীল করতে ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ