পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চোখের দৃষ্টিশক্তি চিকিৎসার পর উল্লেখযোগ্য হারে উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক মেডিকেল প্রতিবেদনে কারা প্রশাসন দাবি করেছে, বর্তমানে তার দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। মঙ্গলবার আদালতে তার করা আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শের সুযোগ চেয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইমরান খানকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং কারাগারের চিকিৎসকেরা দিনে তিনবার তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। এই প্রক্রিয়ায় তার রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং খাবারের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া কারাগারে থাকার পুরো সময়ের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্রও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা প্রশাসন।
তবে মেডিকেল প্রতিবেদনে কিছু উদ্বেগের বিষয়ও উঠে এসেছে। আগস্টের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত করা বিভিন্ন পরীক্ষায় তার রক্তচাপের ওঠানামা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, মাথাব্যথা এবং অস্থিরতার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, স্ত্রী, পরিবারের সদস্য এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অনিয়মিত সাক্ষাতের ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপ থেকে এসব শারীরিক সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির মধ্যে এ পর্যন্ত ৮৪ বার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং প্রতি মঙ্গলবার তাদের সাক্ষাতের নিয়ম রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার স্ত্রী বুশরা বিবিও একই কারাগারে আটক আছেন। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, বন্দি থাকা এই দম্পতির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। অন্যদিকে, কারা কর্তৃপক্ষের দাবির বিপরীতে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তার সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।