শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে স্পষ্ট করেছেন যে, তার দেশের ভূখণ্ড ভারতবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কলম্বোতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই নিশ্চয়তা প্রদান করেন। তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার কলম্বো পৌঁছান রাজনাথ সিং, যার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা।
বৈঠককালে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে একটি চুক্তির আওতায় শ্রীলঙ্কার বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত এল৭০ আকাশ প্রতিরক্ষা কামানগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। এছাড়া দুই দেশের ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (এনসিসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর নির্মিত তিনটি বেইলি সেতুর উদ্বোধন করা হয়।
নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কারণ হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে চীনের ঋণে নেওয়া অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটো বন্দরের অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৭ সালে বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ ও এর আশপাশের ১৫ হাজার একর জমি ৯৯ বছরের জন্য চীনের কাছে ইজারা দেয় কলম্বো। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে শ্রীলঙ্কার পুনর্গঠন কার্যক্রমে ভারতের ব্যাপক পুনর্বাসন সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়া সাইক্লোন ডিটওয়ার পরবর্তী সময়ে ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’র আওতায় ভারত যে জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। রাজনাথ সিং বলেন, ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও সামুদ্রিক অংশীদার হিসেবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা দুই দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে দুই দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সংকল্প নিয়েছে।