জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার পরবর্তী ধাপে আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তিন আসামির আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক সেই আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। অভিযুক্তরা হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের সহযোগী ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)। তারা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন এবং শুনানির দিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
নিহত জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন তিনি। গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকেলে আরমানিটোলার বাসায় ছাত্রীকে পড়াতে যাওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। সন্ধ্যার দিকে ওই ছাত্রীই জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাইকে ফোন করে গৃহশিক্ষকের বিপদের কথা জানান। খবর পেয়ে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন এ তথ্য জানান। প্রতিদিনের মতো তিনি গত বছর ১৯ অক্টোবর বিকেলে বংশাল থানা এলাকার আরমানিটোলার বাসায় বর্ষাকে পড়াতে যান। পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার। ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডে বর্ষাসহ তিনজনের স্বীকারোক্তি।
এ ঘটনায় এনায়েত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন বংশাল থানার পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে এই ঘটনা ঘটানো হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্যমতে, প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। পুলিশি তদন্তে মাহিরকে প্রধান হামলাকারী, বর্ষাকে পরিকল্পনাকারী এবং আয়লানকে সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৮ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি, প্রেমের কারণে খুন সন্দেহ পুলিশের।