রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু চিকিৎসা নয়, দরকার সমন্বিত সচেতনতা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ট্রাম্প-এরদোগান ফোনালাপ: ইরান উত্তেজনা ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের গুঞ্জন: বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্পবাদ কি মার্কিন রাজনীতির বিভাজন ঘুচিয়ে পারবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও বাংলাদেশের বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিচার বিভাগের বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি: আইনমন্ত্রী অর্থনীতি গণতান্ত্রিক না হলে রাজনীতির গণতন্ত্র কার্যকর হয় না: অর্থমন্ত্রী বিগত সরকারের জিডিপি হিসাবে গরমিল, জানালেন অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের ফল বানচালের চেষ্টায় আদালতের দ্বারস্থ নেতানিয়াহুর দল ভৈরব নদের ভাঙনে বিলীন লোহাপট্টির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আগে বিচারের দাবি হাসনাত আবদুল্লাহর

প্রতিবেদকের নাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত নানা অপরাধের বিচার নিশ্চিত না করে দলটি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বড় ভুল। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি জানিয়েছেন, যেকোনো ধরণের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের আলোচনার আগে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ১৯৭২ থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংগঠিত অপকর্মগুলোর বিচার নিশ্চিত না করেই জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান: বর্তমানের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইন ও বিচারব্যবস্থাই নির্ধারণ করবে কাদের দায়বদ্ধতা কতটুকু এবং কে অপরাধী আর কে নয়। বিচারের মাধ্যমেই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ও ভাগ্য নির্ধারিত হওয়া উচিত।

বিএনপির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দলটি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব হিসেবে উদযাপন করলেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে সেভাবে স্বীকৃতি দিতে দ্বিধা বোধ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বিএনপি ইতিহাসের ঘটনাগুলোকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করে। তাদের মতে, ৭ নভেম্বরের ঘটনায় সৈনিক ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে জিয়াউর রহমান মুক্ত হয়েছিলেন, এটি ঠিক। কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সৈনিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও বিএনপি একে যথাযথ স্বীকৃতি দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের একক মালিকানা বিএনপি দাবি করলেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি জনগণের অর্জন। এত বিস্তৃত জনসম্পৃক্ততা ও অর্জন থাকার পরও বিএনপি কখনো একে গণ-অভ্যুত্থান, এমনকি বিপ্লব হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে চায় না। এ কারণে ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বলা হলেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন ওঠে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সভায় বলেন, জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই সময়ে দলটির বিগত দিনের অপরাধের হিসাব না নেওয়ায় সেটি পুনর্মিলন না হয়ে রাজনৈতিক পুনর্বাসনে রূপ নিয়েছিল। একই ভুল এবার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপিকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সারোয়ার তুষার আরও যোগ করেন, জিয়াউর রহমানের অবদান থাকলেও তৎকালীন সাংবিধানিক কাঠামোর দুর্বলতা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তি দিতে পারেনি। সামরিক আইনের মাধ্যমে কাঠামোগত পরিবর্তন এনে পরে তা পুরোনো সংবিধানের আদলে মেলানোর প্রচেষ্টা ছিল ইতিহাসের একটি বড় ত্রুটি।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দেশের মানুষকে ‘বাকশাল টু’ থেকে মুক্তি দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত। এর ফলে রাজনীতির সুযোগ ও বাকস্বাধীনতা উন্মুক্ত হয়েছে। আয়োজিত এই সভাটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক ইমরুল হাসান, সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক এবং স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মনজিলা ঝুমা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ‘বাকশাল টু’ থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার সুযোগ এবং বাক্স্বাধীনতার পরিসর উন্মুক্ত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ