বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মীমাংসার সুযোগ দেখছেন না ডা.

প্রতিবেদকের নাম

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেকোনো ধরনের পুনর্মিলন বা রাজনৈতিক মীমাংসার আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সরকারের পক্ষে কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারের কোনো দ্বিমত নেই এবং ৫ আগস্টের পর থেকে এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগের যেসব সমর্থক বা কর্মী এখনো দেশে আছেন এবং সক্রিয়ভাবে দলটির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, তাদের সঙ্গে একটি সংহতির আলাপ হতে পারত। তবে এ ধরনের আলোচনার জন্য অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুশোচনার মতো পূর্বশর্ত থাকা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। রিকনসিলিয়েশন নিয়ে সরকারের ভাবনাটা কী—জবাবে তিনি বলেন, ‘রিকনসিলিয়েশনের বিষয়—আমরা দ্বিমত করি না। একটা রিকনসিলিয়েশন দরকার ছিল—এই আলাপগুলো ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী যারা পালিয়ে গেছেন তাদের কথা বলছি না। যারা এদেশে আছেন, এদের মধ্যে একটা পারসেন্টেজ, পারসেন্টেজটা কত। সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যারা আওয়ামী লীগ অ্যাকটিভলি করেছেন, তাদের সঙ্গে একটা রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না। তিনি আরও বলেন, ‘রিকসিলিয়েশনের আদি শর্তটা কী। কোন ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে রিকসিলিয়েশন হয়। ফান্ডামেন্টালটা, আমরা সাউথ আফ্রিকায় যখন দেখেছি, কী হয়েছিল আসলে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দলটির পক্ষ থেকে এবং বিশেষ করে তাদের প্রধান নেত্রীর তরফ থেকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই রাজনৈতিক মীমাংসার আলোচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যেভাবে অপরাধের স্বীকৃতি ও প্রায়শ্চিত্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল, এখানে সে ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

চাঁদাবাজির ঘটনায় সরকারি দলের সম্পৃক্ততা ও প্রশ্রয় সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সরকার কোনোভাবেই অপরাধীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। তবে সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধে জড়ালে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সম্প্রতি মিরপুরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার কোনো অন্যায় সহ্য করবে না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাটি বেশ স্পষ্ট। জনগণের কষ্ট লাঘবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। ব্যর্থ হলে সরকারকেই এর মাসুল দিতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বিশেষ অভিযান বা যৌথ বাহিনীর কার্যক্রমের গুঞ্জন নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ নিয়ে আগে যে প্রশ্ন করা হয়েছিল তা ছিল ভুলভাবে উপস্থাপনকৃত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, পুলিশ বাহিনী বর্তমানে যেভাবে দায়িত্ব পালন করছে, সেভাবেই তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। যৌথ বাহিনীর কোনো অভিযানের পরিকল্পনা নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

দেশের বর্তমান সংকট ও জ্বালানি মূল্য নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। তিনি জানান, সরকার এই সংকট কাটানোর চেষ্টা করছে এবং জ্বালানি ইস্যু স্থিতিশীল হলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। জনগণের কাছে সরকারের এই সীমাবদ্ধতা ও সংকটের বিষয়টি ধৈর্যসহকারে দেখার আহ্বান জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ