বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিবেদকের নাম

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি ও শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার বাবার হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানে পৌঁছালে ১৫০ জন শিশু তাকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অভ্যর্থনা জানায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে শিশুদের নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নাচ, গান ও আবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। মঙ্গলবার মূল পর্বে শিশুদের পরিবেশনার পাশাপাশি ‘শৈশব’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন এবং স্মারক উপহার প্রদান করা হয়। এছাড়া ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি শিশুদের চিত্রকর্ম ও ফটো গ্যালারি ঘুরে দেখেন এবং শিশু জাদুঘর ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশনের উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৮১ সালে এখানকার মিলনায়তনটি তার নামে নামকরণ করা হলেও বিগত সরকারের আমলে তা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদে আইন অনুমোদিত হলেও এখনো এর সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) চূড়ান্ত হয়নি। ফলে দেশের ৬৪টি জেলা ও ছয়টি উপজেলা শাখায় শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়ন ও প্রারম্ভিক বিকাশমূলক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।

একাডেমির দৈন্যদশা সম্পর্কে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এখানে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়, যার ফলে ভাস্কর্য ও শিশু জাদুঘরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা আজও সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে একাডেমির জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপত্তি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ ও ‘অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান বন্ধ রয়েছে, যা শিশুদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ