বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম

শিশুদের নিজেদের প্রতিভা ও গুণাবলী বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর।

স্মৃতিচারণ ও শিশুদের প্রতি আহ্বান

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের উদ্দেশে বলেন, আজকের এই আয়োজনটি মূলত তোমাদের নিয়ে। তাই বড়দের দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময়ে তিনি নিজেও শিশু হিসেবে এখানে এসেছিলেন। তিনি জানান, শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে একসময় তার ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি বোর্ডে নিজের ও ভাইয়ের সেই পুরোনো লেখা দেখে তিনি নস্টালজিক হয়ে পড়েন এবং সেই স্মৃতি রোমন্থন করেন। আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছ, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।

প্রতিভা ও গুণাবলী বিকাশে করণীয়

প্রধানমন্ত্রী শিশুদের শুধু পড়াশোনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রত্যেক শিশুর ভেতরে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে, যা বিকাশের জন্য যথাযথ সুযোগ প্রয়োজন। যারা গিটার, হারমোনিয়াম, বাঁশি কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে, তাদের তা ভালোভাবে শেখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি গান, নাচ, কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াতে পারদর্শিতা অর্জনের ওপর জোর দেন সরকারপ্রধান।

সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো সারাদেশের ২২ লাখ শিশু ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া সরকার ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের আদলে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আবারও জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৭ ও ২০২৮ সাল নাগাদ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো শিল্প ও ক্রীড়ার ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার পূর্ণ সুযোগ পাবে। প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যাতে শহরের মতো সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে স্কুল পর্যায় থেকেই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিশুদের প্রস্তুত করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা যেমন—আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিজ শেখানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি ব্যক্ত করেন। প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু- ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ক্রীড়া আয়োজন সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান আরও বলেন, এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটিভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। একটি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা ভবিষ্যতে বিদেশে পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে শিশুদের সহায়তা করবে।

মানবিক মূল্যবোধ ও প্রকৃতিপ্রেম

শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক দক্ষতার পাশাপাশি শিশুদের মানবিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের মানবিক হতে হবে। দেশের প্রকৃতি, পশুপাখি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ি, স্কুল ও আশপাশের গাছের যত্ন নেওয়া এবং প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়া প্রতিটি শিশুর দায়িত্ব। এ ধরনের দায়িত্বশীল আচরণ একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও সমাপ্তি

  • অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল: ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।
  • অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।
  • সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
  • অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ